ফরিদপুরে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক
ফরিদপুরের সালথায় নাদেরা আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের পশ্চিম বিভাগদী গ্রাম থেকে তার স্বামীর ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করে সালথা থানা পুলিশ। নাদেরা আক্তার ওই গ্রামের রাজু মাতুব্বরের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ সেপ্টেম্বর রাজু মাতুব্বর নাদেরাকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। তবে এর আগে একাধিক বিয়ে করেছে রাজু। বিয়ের পর থেকেই নাদেরাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শনিবার বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে রাজু নাদেরাকে মারধর করলে স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরার পর রাতেই পুনরায় হাতুড়ি দিয়ে নাদেরাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় রাজু।
পরদিন সকালে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় নাদেরার নিথর দেহ দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতাউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি টিম মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। গৃহবধূর শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে মৃত্যুর আসল রহস্য কি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় রাজু মাতুব্বরের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি একটানা এলাকায় বেশি দিন থাকতেন না। রাজু মাতুব্বরের একাধিক বিয়ের ইতিহাসও রয়েছে এবং সে প্রায়ই স্ত্রীদের নির্যাতন করত।
ইত্তেফাক