সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির দৌড়ঝাঁপ: ত্যাগীদের মূল্যায়ন নাকি নতুন সমীকরণ?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। সকালে নবনির্বাচিত এমপিদের এবং বিকেলে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় নতুন সরকারের।
এবার রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রে একটিই প্রশ্ন- সংরক্ষিত নারী আসনে কাদের দেখা যাবে?রমজানের মধ্যেই ভোট, তীব্র মনোনয়ন দৌড়
নির্বাচন কমিশন চায় রমজানের মধ্যেই ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করতে। আসন অনুপাতে বিএনপি জোটের ভাগে আসতে পারে প্রায় ৩৬টি আসন। ফলে প্রকাশ্যে শান্ত, ভেতরে সরব লবিং শুরু হয়েছে।
দলীয় নেত্রীরা বলছেন, এবার প্রাধান্য পাওয়া উচিত তাদেরই, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন। তৃণমূলের এই বার্তা এখন হাইকমান্ডের টেবিলে।ত্যাগীদের নাম সামনে
আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় অধ্যাপিকা শামীমা ইয়াসমিন মিথিলার নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। সংঘর্ষে আহত হওয়া এবং ধারাবাহিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে বলে জানা যায়।দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও রয়েছেন আলোচনার শীর্ষ সারিতে। ২০০১ সালে তিনি সংরক্ষিত আসনের এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী-র নামও ঘুরছে আলোচনায়।ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের কয়েকজন নেত্রীও আলোচনায় রয়েছেন। দল চাইছে অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের একটি সমন্বিত বার্তা দিতে।সাংস্কৃতিক অঙ্গনের চমক?
রাজনীতির বাইরেও কয়েকটি নাম ঘুরছে। কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপা-র নাম শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য তালিকায়। যদিও এ নিয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই।
সংখ্যার অঙ্ক
প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বিএনপি পেয়েছে ২১১টি আসন। সেই অনুপাতে প্রায় ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন তাদের দখলে যেতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনের ভিত্তিতে পেতে পারে প্রায় ১২টি সংরক্ষিত নারী আসন। এছাড়া এনসিপি ও স্বতন্ত্রদের ভাগেও একটি করে আসন যেতে পারে বলে ইসি সূত্রের ইঙ্গিত।
সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন শেষ করতে হয়। কমিশনের পরিকল্পনা, ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
বড় বড় পথ ধারি কিন্তু আন্দোলন সংগ্রামে অনুপস্থিত পুরনো নেত্রীরা নাকি অধিকতর যোগ্য ও ত্যাগীদের অন্তর্ভুক্ত করনের নতুন বার্তা?
দলীয় ভেতরের আলোচনায় স্পষ্ট- এবার শুধু আনুগত্য নয়, আন্দোলনের ইতিহাসও বিবেচনায় আসছে। ২০০১ সালের অনেক সাবেক এমপি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও, কয়েকজন আবারও সুযোগের আশায়।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই: সংরক্ষিত নারী আসন কি হবে ত্যাগী নেত্রীদের স্বীকৃতি, নাকি রাজনৈতিক সমীকরণ মেলানোর কৌশল?
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন দলীয় হাইকমান্ডের হাতে। তবে তৃণমূলের প্রত্যাশা স্পষ্ট-রাজপথের সংগ্রাম যেন এবার সংসদের আসনে প্রতিফলিত হয়। অধিক যোগ্য এবং ত্যাগীরা যেন স্থান পায়।