নতুন প্রজন্ম প্রত্যাখ্যান করছে ক্ষমতার শর্টকাটের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতে আমরা দেখেছি, অনেক সময় আবেগের ওপর নির্ভর করে, মানি-মাসল বা পেশিশক্তিকে হাতিয়ার বানিয়ে রাজনীতি পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু আজ সময় বদলেছে। রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি সামনে আসার পর রাজনীতিকে এখন আর শুধু আবেগে চালানো যাবে না। এখন প্রয়োজন তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, জ্ঞানভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা। এ প্রক্রিয়া আমাদের রাজনীতিকে গুণগত দিকনির্দেশনা দিচ্ছে, যা সামনে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে প্রমাণ করেছে যে ছাত্র আন্দোলন ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম দুর্বৃত্তায়িত ও চাঁদাবাজ রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে এবং পরিবর্তনের দাবি তুলছে। তারা বুঝে গেছে রাজনীতি মানে আন্তরিকতা, সংগ্রাম ও অঙ্গীকার; রাজনীতি লুটপাট কিংবা ক্ষমতার শর্টকাট রাস্তা নয়।
আমরা দেখেছি, অতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দাঁড়ানোর সাহস পেত না, কিন্তু এখন তারা দাঁড়াচ্ছে। এখন রাজনীতির চেহারা পাল্টাচ্ছে। বড় জনসভা নয়, বরং সাইবার প্রচারণা, নতুন প্রজন্মের ভাবনা ও অংশগ্রহণ রাজনীতির নতুন সংস্কৃতি তৈরি করছে। প্রচলিত বড় ভাইদের সালাম, প্রটোকল বা দখলদারির রাজনীতি ছাত্ররা প্রত্যাখ্যান করেছে। এটাই পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
আজকের সংকটে রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনে করে রাজনীতি শুধু মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা, তবে সেই রাজনীতি টেকসই হবে না। এখনো তাদের ঘুরে দাঁড়াবার সুযোগ আছে, কারণ জনগণ বিকল্প খুঁজছে। ঐক্য ও সংস্কার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য যেমন দৃঢ়তা দরকার, তেমনি প্রয়োজনে ছাড় দেওয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে। সংকট সমাধানে সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে, যা সবাইকে মানতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, রাজনীতি কোনো হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত সংগ্রাম। আমাদের সবার দায়িত্ব সৎ, অংশগ্রহণমূলক ও সংস্কারমুখী রাজনীতি গড়ে তোলা। তাহলেই আগামী দিনের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা সম্ভব হবে।
ধন্যবাদ। সকলকে নতুন রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্বাগতম ও শুভকামনা।
-তানভীর ইসলাম স্বাধীন
সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক
নাগরিক ছাত্র ঐক্য