fbpx
হোম আন্তর্জাতিক ইরানে ৪৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড, জনরোষ সৃষ্টি
ইরানে ৪৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড, জনরোষ সৃষ্টি

ইরানে ৪৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড, জনরোষ সৃষ্টি

0

প্রকাশ্যে এক অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দায় সরব হয়েছে সারা বিশ্ব। সেই সঙ্গে হাড়হিম করা তথ্য প্রকাশ করেছে একটি মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা। তাদের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে, গত একমাসে অন্তত ৪৫ জনকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুঁলিয়েছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। এমনকি একদিনে ১০ জনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে, সেই পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে মার্কিন ওই সংস্থা। বিষয়টি জানতে পেরে জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গত শনিবার ইমান সাবজিকার নামে এক অপরাধীর প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। এক পুলিশ কর্মকর্তাকে খুনে দোষী সাব্যস্ত ওই ব্যক্তিকে অপরাধস্থলেই ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। গোটা ঘটনাটির ভিডিও নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, চোখে কালো পট্টি বাঁধা ওই অপরাধীর পরনে সে দেশের জেলবন্দিদের ফিকে নীল-কালো ডোরাকাটা পোশাক। যে জায়গায় খুন করেছিল ইমান, সেখানে দাঁড় করানো ট্রাকের উপর অস্থায়ী ফাঁসির মঞ্চে ওঠানো হয় তাকে। এর পর একটি ক্রেনের সঙ্গে আটকানো ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর প্রায় সাত মিটার পর্যন্ত উঁচুতে ঝুলতে থাকে ইমানের দেহ। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

ঘটনার কথা জানতে পেরেই সরব হয় নরওয়ের মানবাধিকার সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমজনতাকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতেই এই নৃশংস মধ্যযুগীয় শাস্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে মানুষের আরও প্রতিবাদ করা উচিত, বিশেষ করে জনসমক্ষে ফাঁসির মতো সাজার ক্ষেত্রে।

তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মধ্য প্রাচ্যের দেশটি। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। সেই কারণেই সরকার চাইছে, দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করে মানুষকে ভয় দেখাতে।

ইরানের পরিস্থিতি দেখে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ। গত ১৬ জুলাই এক প্রতিবেদন পেশ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সেখানে বলা হয়েছিল, ইরানে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার হার দৈনন্দিন বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে কারাগারে অবহেলার ফলে কয়েদিদের মৃত্যুর সংখ্যাও নেহায়েৎ কম নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২০ সালে ইরানে ২৬০ জন অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরের বছর সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩১০। চলতি বছরে ইরানে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আরও বাড়বে, এমনটাই আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *