সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির দৌড়ঝাঁপ: ত্যাগীদের মূল্যায়ন নাকি নতুন সমীকরণ?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ এবং বিকেলে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে নতুন সরকার।সরকার গঠনের পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সংরক্ষিত নারী আসন। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজানের মধ্যেই সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। দলীয় আসন অনুপাতে বিএনপি জোটের ভাগে আসতে পারে প্রায় ৩৬টি আসন। ফলে মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে নীরব কিন্তু তীব্র দৌড়ঝাঁপ।
ত্যাগীদের দাবি, মূল্যায়নের প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেত্রীরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনে প্রাধান্য পাওয়া উচিত পরীক্ষিত ও নির্যাতিত কর্মীদের। মহিলা দলের নেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে আন্দোলনে থেকে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন তারা। এখন সময় এসেছে তাদের অবদানের মূল্যায়নের।আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় থাকা অধ্যাপিকা শামীমা ইয়াসমিন মিথিলার নামও আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সংঘর্ষে আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আলোচনার প্রথম সারিতে যারা
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সংরক্ষিত আসনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। ২০০১ সালে তিনি সংরক্ষিত আসনের এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবীও রয়েছেন সম্ভাব্য তালিকায়।ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা কয়েকজন নেত্রীর নামও জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হেলেন জেরিন খান, আরিফা সুলতানা রুমা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী ও সৈয়দা আদিবা হোসেন।
এছাড়া বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, শিরিন সুলতানা, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হকসহ আরও অনেকে আলোচনায় আছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেও কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপার নাম শোনা যাচ্ছে।পুরোনো মুখ নাকি নতুন প্রজন্ম?
দলীয় সূত্র বলছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় হতে পারে। ২০০১ সালের অনেক সাবেক এমপি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও, কেউ কেউ আবারও সুযোগ পেতে পারেন। তবে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিতদের প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা ইতোমধ্যে এসেছে তৃণমূল পর্যায় থেকে।সংখ্যার হিসাব
প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বিএনপি পেয়েছে ২১১টি আসন। সেই অনুপাতে তারা সংরক্ষিত নারী আসনে প্রায় ৩৬টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনের বিপরীতে পেতে পারে ১২টি নারী আসন। এছাড়া এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও একটি করে সংরক্ষিত আসন পেতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।এখন দেখার বিষয়, দলীয় হাইকমান্ড কাদের ওপর আস্থা রাখে। ত্যাগী নেত্রীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস যেন এবার সংসদের আসনে প্রতিফলিত হয়।