fbpx
হোম জাতীয় মানিক মিয়ার ই ত্তে ফা ক বহমান সময়ের সা হ সী সা ক্ষী
মানিক মিয়ার  ই ত্তে ফা ক  বহমান সময়ের সা হ সী সা ক্ষী

মানিক মিয়ার ই ত্তে ফা ক বহমান সময়ের সা হ সী সা ক্ষী

0

সংবাদপত্রকে থাকতে হয় সত্যের পক্ষে, সেটাই তার দার্শনিক ভিত্তি। সংবাদপত্র এককভাবে সমাজ বা রাষ্ট্রকে বদলাতে পারে না। তা যদি পারত, তাহলে সরকার ও সংস্কারকদের প্রয়োজন হতো না। যার যা কাজ, সে তা-ই করবে। সরকারের কাজ সরকার করবে। সমাজের অগ্রগতির লক্ষ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান যারা, তারা তাদের কাজ করবেন। তাদের সহযোগী শক্তি হিসেবে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে কাজ করে সংবাদপত্র। বাংলাদেশে এখন বেশ কয়েকটি উন্নতমানের পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যেগুলো রাষ্ট্র বা সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণের জন্য বিশাল ভূমিকা পালন করে থাকে।
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকতার কারণে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু হওয়ায় সংবাদপত্রের সামনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। কোনো কারণে মূলধারার সংবাদপত্র কোনো সংবাদ আড়াল করতে চাইলেও এখন আর তা সম্ভব নয়। পত্রিকার এখন প্রধান কাজ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে অবিচল থাকা। মানুষের চেতনার মান উন্নত ও শানিত করাও সংবাদপত্রের অন্যতম দায়িত্ব। সংবাদপত্র যে প্রকৃতপক্ষে ‘ফোর্থ স্টেট’, এই ধারণাও মূলত শতাব্দী-পুরোনো।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গ্যালারিতে উপস্থিত সংবাদপত্র প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে মেকলে বলেছিলেন, “তাহারা এই রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্টেট’।” রাষ্ট্রকাঠামোতে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা বুঝতে যে তাত্ক্ষণিক উক্তিটি করেছিলেন মেকলে, সেটাই সংবাদপত্রের একটি বিশেষ পরিচয়কে তুলে ধরেছে এবং সেই পরিচয় এখনো মূর্তমান।

সংবাদপত্রকে গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার বিকল্পহীন প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এ কারণেই গণতন্ত্র বিপন্ন হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিপর্যয় ঘটতে পারে। আবার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব হলে গণতন্ত্রও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। সংবাদপত্র মূলত পাঠকের জন্য এবং সেই পাঠক অবশ্যই সমাজমনস্ক পাঠক। সংবাদপত্র যখন নির্বিঘ্নে সমাজের অবিকৃত নানা ঘটনার একটি নিরপেক্ষ সংবাদচিত্র পাঠকদের উপহার দিতে পারে, তখন সেই সংবাদপত্র শুধু পাঠকের খোরাক জোগায় না, একজন সাধারণ পাঠককেও সপ্রতিভ নাগরিক করে তোলে।

আজকাল একজন নাগরিককে আর রাজনীতি থেকে আলাদা করে ভাবা হয় না। ভাবার অবকাশও নেই। একজন নাগরিক রাজনৈতিকভাবে সচেতন না হলে সে যেমন জাতির কল্যাণ সাধন করতে পারে না, তেমনি নিজের কল্যাণ সাধনও তার পক্ষে সার্থকভাবে করা সম্ভব নয়। নাগিরকদের রাজনৈতিক জ্ঞান অর্জনের মতো উপায় আছে, তার মধ্যে সংবাদপত্রের স্থান সর্বাগ্রে। সংবাদপত্রের জগতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় এবং পৃথিবীর গণমাধ্যমগুলো অতিবৈজ্ঞানিক ত্বরিতসেবা প্রদান করতে সক্ষম হওয়ায় সংবাদপত্রের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে কোনো সময়ই সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে ব্রিটিশ আমল থেকে বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য কমবেশি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নটি অভিন্ন হওয়ায় যখনই গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে, তখনই সংবাদপত্রেরও কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে। সংবাদপত্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সেন্সরশিপ, প্রণয়ন করা হয়েছে বিভিন্ন কালাকানুন।

এমনকি সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ এবং প্রেস পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিশেষত পাকিস্তানি তত্কালীন শাসকগোষ্ঠীর কাছে এটা ছিল একটা অমোঘ অস্ত্র। যখনই গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, তখনই এই সেন্সর ও আইনের নির্মম প্রয়োগনীতি অনুসরণ করা হয়েছে। পূর্ব বাংলায় তত্কালীন শাসকগোষ্ঠীর এই কালো আইনের কোপানলে পড়ে যে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানটি সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা হলো ‘ইত্তেফাক’ এবং যে মহান সংগ্রামী সাংবাদিক সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন, তিনি হলেন—সাংবাদিকতার অম্লান কিংবদন্তি মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাস এবং দৈনিক ইত্তেফাকের পথচলা একই সূত্রে গাঁথা; একই সুর, অভিন্ন আবেদন। ইত্তেফাক একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ হলো ঐক্য বা একত্রে বা মিলেমিশে কাজ করা। কালের আবহে বার বারই প্রমাণিত হয়েছে নামকরণের যথার্থতা। জনগণের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বস্তুনিষ্ঠ, সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের প্রকাশে দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেই সৃষ্টিলগ্ন থেকে। কঠিনতম সময়কে জয় করে, শত কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অসংখ্য চড়াই-উতরাই শেষে এখনো সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আজকের দৈনিক ইত্তেফাক।

পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাসে শাসন-শোষণ-নিপীড়ন-নির্যাতন অসহ্য অসহনীয় হয়ে উঠলে ফুঁসে ওঠে বাঙালি। তখন অস্ত্রের মুখে স্বাধিকারের ডাকে প্রকম্পিত করে তোলে আকাশ-বাতাস। আর সেই রণধ্বনির প্রকম্পনকে স্ফুলিঙ্গের মতো প্রজ্বলিত করেছিল দৈনিক ইত্তেফাক। পাকিস্তানি শাসনামলে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গী ছিল ইত্তেফাক। জনমত সৃষ্টিতে এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জোগাতে ইত্তেফাকের ভূমিকা ছিল বলিষ্ঠ। দেশের বাইরে ও পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন-সংগ্রামে ইত্তেফাক জুগিয়েছে অকুণ্ঠ সমর্থন। বস্তুতপক্ষে আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রাম, মুক্তির আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের বিকাশে দৈনিক ইত্তেফাকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

পঞ্চাশের দশকের প্রথমার্ধে, ১৯৫৩ সালে ইত্তেফাক পত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয়, প্রথমে সাপ্তাহিক হিসেবে, পরে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও ইয়ার মোহাম্মদ খানের চেষ্টায় ও তত্ত্বাবধানে যাত্রা শুরু হয়েছিল ইত্তেফাকের। এর অল্প কিছু দিন পরই সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া; তার গতিশীল নেতৃত্বে বাড়তে থাকে ইত্তেফাকের প্রচার-প্রসার। ১৯৬৬ সালের ৬ নভেম্বর যখন ৬-দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবি করা হয়, তখন দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক মর্নিং নিউজ ও দৈনিক আজাদ ৬-দফার বিরোধিতা করে। কিন্তু ৬-দফার পক্ষে অবস্থান নেয় দৈনিক ইত্তেফাক। শুধু তা-ই নয়, অন্যতম প্রচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

ফলে ১৯৬৬ সালের ১৭ জুন ইত্তেফাক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকেও। সে সময়ে তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আপস করলে হয়তো মানিক মিয়া ইত্তেফাক প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে পারতেন। কিন্তু তিনি ছিলেন নীতির কাছে অনড়। গ্রেফতার হওয়ার প্রায় ১০ মাস পর ১৯৬৭ সালের ২৯ মার্চ মানিক মিয়া মুক্তি পান। মুক্তি লাভের পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ না করার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সাফ জানিয়ে দেন, ইত্তেফাক যদি তার ঐতিহ্য অনুসরণ করে প্রকাশিত না হতে পারে, তাহলে তিনি সেই পত্রিকা প্রকাশে আগ্রহী নন। এভাবেই দৈনিক ইত্তেফাক দেশের সংকটময় মুহূর্তে অকুতোভয় দুঃসাহসী সৈনিকের কাজ করে গেছে।

মানিক মিয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে মনে করতেন স্বাধীন জনমত। তার ধারণা ছিল, জনমতের কণ্ঠরোধে গোটা সামাজিক স্বাধীনতার তাত্পর্যই মূল্যহীন হয়ে পড়ে। মানিক মিয়া স্পষ্টতই মনে করতেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানেই জনসমাজ তথা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা। স্বাধীনতার স্বপ্ন মানিক মিয়া দেখতেন। আর তার সেই স্বাধীনতার স্বপ্নবোধের প্রতীকী ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। তিনি জানতেন, সংবাদপত্রের স্বাধীন ভূমিকা না থাকলে স্বাধীনতাও মূলত অর্থহীন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্বরূপ উল্লেখ করে মানিক মিয়া লর্ড ফ্রান্সিস উইলিয়ামের একটি উদ্ধৃতি প্রায়ই ব্যবহার করতেন। ফ্রান্সিস উলিয়াম বলেছিলেন :The Press is a weapon of freedom, a sword in the hands of those fighting old and new tyrannies the one indispensible weapon in the armory of freedom.

মানিক মিয়াকে অন্তর্ভেদী দৃষ্টিতে চিনতে-বুঝতে তার লেখাগুলো অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করতে হবে, অনুচিন্তনে তা বুঝতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে উদ্ধৃতিযোগ্য একটি মন্তব্য মার্কিন নাট্যকার বিল অ্যাডলারের। তার কথা ছিল, ‘Nothing describes a person better than his words;’ অর্থাত্ এক জন মানুষের কথা দিয়ে যতটুকু বোঝা যায়, তা আর কিছুতে নয়। কথা তো দুই ধরনের— মুখনিঃসৃত আর কলমনিঃসৃত; অবশ্য ক্ষেত্রবিশেষে কাউকে কাউকে শুধু তার বলা কথা থেকেই চিনতে হয়; কারণ তার লেখা হয় নেই বা দুষ্প্রাপ্য। মানিক মিয়া বলেছেন, লিখেছেনও; তার লেখা বই আছে, ভাষণগুলোও গ্রন্থিত করে ছাপা হয়েছে। অর্থাত্ মানিক মিয়াকে চেনা-বোঝার মতো উপকরণ সহজলভ্য।

মাত্র ৫৮ বছর আয়ু ছিল মানিক মিয়ার। এমন মানুষ সম্পর্কে ইংরেজিতে প্রবচন আছে—‘Larger than life’ তথা জীবনের চেয়ে বড়। সংক্ষিপ্ত জীবনে তারা জীবন ও জগেক তাদের কর্মগুণে যেভাবে সমৃদ্ধ করেন, তা-ই তাদেরকে করে চিরস্মরণীয় ও বরণীয়। মানিক মিয়া এমনই একজন কৃতিধন্য মানুষ ছিলেন। তিনি আরো আয়ু পেলে আমরা হয়তো-বা সমৃদ্ধতর হতাম; কিন্তু সমৃদ্ধ তো কম হইনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা তিনি দেখে যেতে পারেননি, যার সৃষ্টিতে তার অবদান স্বীকৃত সত্য। তিনি স্বাধীনতার পর বেঁচে থাকলে দেশটি তার বিবেক-উত্সারিত সাহসী দিকনির্দেশনা পেত।

মানিক মিয়ার নিজের কথা দিয়েই আমরা তার মানসলোকের ভেতরে উঁকি দিতে পারি। মানবপ্রেমী মানুষ রক্তারক্তির মধ্য দিয়ে জীবনের বিপন্নতা ও জীবনের ক্ষয় পছন্দ করতে পারেন না। মানিক মিয়ার জবানিতে তাই আছে, ‘…হিংসা ও রক্তারক্তিতে আমি বিশ্বাস করি না। শান্তিপূর্ণ পথে আলাপ-আলোচনা ও লেনদেনের ভিত্তিতে আমি সমস্যার সমাধান কামনা করি।’ উদ্ধৃতিটিতে বিধৃত তার রাজনৈতিক দর্শনও।

শুধু সংবাদপত্রের নয়, মানুষের কীর্তিখ্যাত সাংবাদিক ছিলেন মানিক মিয়া। সাংবাদিক হিসেবে মানিক মিয়ার হিমাদ্রিসম উচ্চতা আজও অনতিক্রম্য। যশস্বী ব্যক্তিত্ব আবুল মনসুর আহমদ মানিক মিয়ার লোকান্তরণের পর যে লেখা লিখেছিলেন, তার শিরোনাম ছিল, ‘জাতি যে মানিক হারাইল’। উল্লেখ্য, মানিক মিয়াকে চিনেছিলেন ও বুঝেছিলেন তিন জন—সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু ও আবুল মনসুর আহমদ; তিন জনের কাছেই তিনি ছিলেন ‘মানিক’।

আমরা কি মানিক মিয়ার ‘মানিকত্ব’ চিনেছি বা বুঝেছি? তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া এক ঋজু মন আর অন্তঃস্থ হূদয়বত্তায় উদারচেতা মহান ব্যক্তিত্ব। পেশায় তিনি ছিলেন সাংবাদিক। বিচক্ষণতা ও মানবপ্রেম ছিল তার চালিকাশক্তি। উপমহাদেশে এমন এক বৈরী লগ্নে তার জীবন ও কর্ম অতিবাহিত হয়েছে যে, তা আলোচনা করতে গিয়ে বিধুর না হয়ে উপায় থাকে না। তিনি ছিলেন মনুষ্যত্বের সাধক ও চিন্তাবিদ।

ইত্তেফাক কখনো বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সংবাদ পরিবেশন করেনি; ইত্তেফাক কখনো রাগ-বিদ্বেষ চরিতার্থ করার জন্য সংবাদ পরিবেশন করে না। বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলনের জন্য ইত্তেফাক সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইত্তেফাক মানুষের কাছে সত্য নিয়ে হাজির হয়েছে। বিভিন্ন গোষ্ঠী অনেকবার ইত্তেফাকের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ইত্তেফাকের ন্যায়-নিষ্ঠার কাছে তারা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। এর একটি বড় কারণ ইত্তেফাক বাঙালির হূত্স্পন্দন বোঝে।

বাঙালি জন্মগতভাবে অসাম্প্রদায়িক। এ দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের কোনো জায়গা নেই। আর ইত্তেফাক বাঙালির এই মূল ধারাকেই ধারণ করে আসছে সৃষ্টিকাল থেকে। স্বাধীনতার অর্ধশতক পার হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে নানা বিষয়ে। বিবর্তন ঘটছে গণমাধ্যমের ধরনের। বহুমুখী প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক পত্রিকা। কিন্তু প্রতিযোগিতার এই জোয়ারেও দৈনিক ইত্তেফাক খানদানি পত্রিকা হিসেবে এখনো তার নিজস্ব স্বকীয়তাকে ধরে সুনামের সঙ্গে টিকে আছে।

গৌরবের ৭২ বছর পেরিয়ে ইত্তেফাক পা রেখেছে ৭৩-এর সিঁড়িতে। এই শুভক্ষণে প্রত্যাশা থাকবে ইত্তেফাক তার অতীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করে ভবিষ্যতেও এ দেশের জনমানুষের মুক্তি ও কল্যাণে কাজ করে যাবে। আজকের এই দিন ইত্তেফাকের সব লেখক, পাঠক, সম্পাদক ও প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে হূদয় নিংড়ানো শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
লেখক : ফিকামলি তত্ত্বের জনক, শিক্ষাবিদ, ওয়াইল্ড লাইফ বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ইত্তেফাক

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *