fbpx
হোম আন্তর্জাতিক যুদ্ধের জন্য কেন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে না যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো?
যুদ্ধের জন্য কেন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে না যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো?

যুদ্ধের জন্য কেন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে না যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো?

0

ইউক্রেন অভিযান নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসাবে মস্কোর ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই প্রতিক্রিয়ার মধ্যদিয়ে প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমাদের উচ্চমাত্রার মুনাফেকিই প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা বিশ্বের বহু দেশেই এমন অনেক যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু এসব যুদ্ধের জন্য তারা কখনোই শাস্তি পায়নি। কোনো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েনি। অথচ এগুলো তাদের পাওয়া ছিল।

বর্তমানে ইউক্রেনে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেই একই ঘটনা বিশ্বজুড়েই ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার যার মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি দৃষ্টান্ত। কিন্তু এসব ঘটনায় পুরোপুরি দায়মুক্তি পেয়েছে তারা। অথচ ইউক্রেনে হামলার কারণে আজ পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে রাশিয়া ও ভ্লাদিমির পুতিনকে নব্য নাৎসি হিসাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এখন আসুন, কিছু বিষয় পরিষ্কার করা যাক। ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী অবস্থান কোনো দেশের সহিংস অবস্থানকে বৈধতা দিতে পারে না।

কোনো বাধা ছাড়াই সেই ২০০১ সাল থেকে বিশ্বের দেশে দেশে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আসছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। তাই বলে এটা রাশিয়া কিংবা অন্য কোনো দেশকে অপর কোনো দেশ ও ভূখণ্ডে হামলা চালানোর নৈতিক অনুমোদন দেয় না। অন্য কোনো দেশে শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগকারী দেশের কাছে অবশ্যই এর যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। তবেই ওই শক্তি প্রয়োগকে ‘ন্যায় যুদ্ধ’ হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আজ ইউক্রেনে রাশিয়ার পদক্ষেপ কি ‘ন্যায়’ হিসাবে বিবেচনা করা যাবে বা অন্তত বোধগম্য কোনো কারণ কি পাওয়া যাবে? বিষয়টি বিবেচনার ভার আমি পাঠকের ওপর ছেড়ে দিলাম। তবে এজন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

যারা মূলধারার গণমাধ্যম অনুসরণ কতে থাকেন, শুধু তাদের কাছে এটা বিস্ময়কর ঠেকবে যে, এক দশকের বেশি সময় ধরে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে মস্কো। ২০০৭ সালে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে নিজের বক্তব্যে ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা বিশ্বের নেতাদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রভাব বিস্তারের জন্য কেন আমাদের দেশের সীমান্তেই সামরিক অবকাঠামো গড়া প্রয়োজন? কেউ কি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন?’ পরে আরেক বক্তব্যে পুতিন বলেন, ‘রুশ সীমান্ত পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জাম বাড়ানোর বিষয়টি কোনোভাবেই কোনো রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পছন্দের সঙ্গে যুক্ত নয়।’

তবে রুশ নেতার এসব উদ্বেগ কানেই তোলেনি ন্যাটো। উপরন্তু এরপর পূর্ব ইউরোপে আরও চারটি দেশ আলবেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, মন্টিনিগ্রো ও উত্তর মেসিডোনিয়াকে জোটের সদস্য করেছে। একবার ভাবুন তো, মস্কো যদি দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ের কাছে সামরিক বিস্তার করত, সেক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া কেমন হতো?

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটিতে প্রকাশিত রবার্ট ব্রিজের লেখা মন্তব্য কলাম থেকে সংক্ষেপিত। রবার্ট ব্রিজ একজন মার্কিন লেখক ও সাংবাদিক। ‘মিডনাইট ইন দ্য আমেরিকান এমপায়ার, হাউ করপোরেশনস অ্যান্ড দেয়ার পলিটিক্যাল সার্ভেন্টস আর ডেস্ট্রয়িং দ্য আমেরিকান ড্রিম’ বইয়ের লেখক তিনি

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *