মা-মেয়েকে গণধর্ষণ
এলাকার পাড়া প্রতিবেশী ভাই কৌশলে অটোরিকশায় সারাদিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে সন্ধ্যার পর বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে নিভৃত পল্লীর পতিত বাড়িতে নিয়ে মা-মেয়েকে সাতজনে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পলাশিকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গত কয়েকদিন আগে শেরপুর সদর উপজেলার বার ঘরিয়া গ্রামের গৃহবধূ তার কিশোরী (১৬) কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার পলাশিকুড়া গ্রামে বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। এরপর শনিবার বেলা ১১টার দিকে তারা অটোবাইকে করে শেরপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু স্থানীয় এক দালাল ওই গৃহবধূর পাড়া প্রতিবেশী ভাই মা-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সারাদিন নালিতাবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘোরাফেরা করে। রাতে পুনরায় পলাশিকুড়া গ্রামে নিয়ে যায়।
পরে তাদের কৌশলে ঢাকায় বসবাসকারী জনৈক ওসমানের নির্মাণাধীন জনশূন্য এক পতিত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নেয়ার পর স্থানীয় ৭ ব্যক্তি মিলে মা এবং মেয়েকে বাড়ির পৃথক স্থানে নিয়ে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। সকালে ধর্ষণের শিকার মা-মেয়ে পলাশিকুড়াস্থ বাড়ি ফিরে ঘটনা প্রকাশ করলে স্বজনরা (৯৯৯) ত্রিপল নাইনে কল করেন। পরে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদলের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী ও ধর্ষণে অভিযুক্ত সাত্তার (৪৫) এবং অভিযুক্ত সাদেক আলীকে (৩০) আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় জড়িত সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদল জানান, সকালে (৯৯৯) ত্রিপল নাইন থেকে ম্যাসেজ আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অভিযান চালিয়ে জড়িত দু’জনকে আটক করি। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের ও ভুক্তভোগী মা-মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।