ডোমারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাপ্পিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডোমার সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালামান ইসলাম বাপ্পির অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও বর্তমান ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক আড্ডায় তাকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, অতীতে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করছেন কেউ কেউ।
এছাড়া ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিভিন্ন সময়ে তাকে ছাত্র রাজনীতির একাধিক সংগঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে। কারও মতে তিনি ছাত্র শিবিরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, আবার কেউ বলছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যক্রমেও তাকে দেখা গেছে।
এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তুলছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা এলাকায় কেউ সমালোচনা করলে তাদের উদ্দেশ্য করে ‘জামাতি’ তকমা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ সালামান ইসলাম বাপ্পির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যক্তি বা নেতাদের দলবদল কিংবা অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নতুন বিষয় নয়। তবে এ ধরনের আলোচনা বা অভিযোগ সামনে এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং রাজনৈতিক পরিবেশ স্বচ্ছ থাকে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে এলাকায় রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।