fbpx
হোম জাতীয় ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগানে উত্তাল শাহবাগ
‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগানে উত্তাল শাহবাগ

‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগানে উত্তাল শাহবাগ

0

কোটা বাতিলের দাবি
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা। বুধবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে একত্রিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজধানীর সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশ নেয়। এরপর মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মোড়, মৎসভবন হয়ে শাহবাগ আসে শিক্ষার্থীরা। বেলা পৌনে চারটা থেকে প্রায় দেড় ঘন্টা সেখানে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীদের কোটা না মেধা, মেধা মেধা; কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক; আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই; আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম; হাইকোর্ট না রাজপথ,রাজপথ রাজপথ; দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ ইত্যাদি স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে শাহবাগে সকল যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা সোয়া পাঁচটায় শাহবাগ অবরোধ ছেড়ে দিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ করে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে আবারো সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শাহবাগে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উল্লেখ করেন। দাবিগুলো হলো: ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা; ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা; সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া; এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
অবরোধ স্থলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ঢাবির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফারাবী রহমান শ্রাবণ বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো বৈষম্য চায়নি। তারা চেয়েছিল সবার অধিকার নিশ্চিত করতে। তারা চেয়েছিল সাম্য, সুযোগের সমতা।কিন্তু সরকারি চাকরিতে এই ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা কখনোই সবার অধিকার নিশ্চিত করে না। আমাদের পূর্বপুরুষ এ কারণে যুদ্ধ করেনি। তারা চেয়েছিল সবার জন্য সমান সুযোগের সমতা। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানাব, আপনারা ন্যায্য দাবির পাশে দাঁড়ান। নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন।
কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র সারজিস আলম বলেন, ২০১৮ সালে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, হাইকোর্ট সেটি বাতিল করেছে। আমরা বিশ্বাস করি এ রায় একটি প্রহসন। সংবিধানে কোটা দেওয়ার কথা বলা নেই। সংবিধানের ২৮ (৪) এবং ২৯ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মনে করলে অনগ্রসর জাতিকে কোটা দিতে পারে। তবে বাধ্য নয়। সংবিধানে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। অন্যায় কোটা দিয়ে কাউকে সুযোগ দিলে আরেকজন বঞ্চিত হবে।
কোটা বাতিলের দাবি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে নই। মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যমূলক সমাজ চেয়েছে? একাত্তরের চেতনা কি বৈষম্যমূলক? তখন সমস্বরে সবাই বলে উঠেন ‘না’ এ সময় সারজিস আলম আরও বলেন, চাকরির আবেদনে কোটাধারীদের ৩২ বছর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীরা কিছু বলেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা আরও বাড়ান, যানবাহন-হাসপাতাল বাড়ান। কিন্তু কোটা স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে যায় না, এটা অন্যায়।

 

 

 

 

ইত্তেফাক

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *