আজিম নিহাদ, কক্সবাজার প্রতিনিধিআজিম নিহাদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি
গুলিবর্ষণের শিকার ট্রলারটি।
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে পণ্যবাহী ট্রলারে মিয়ানমার থেকে গুলি করা হয়েছে। শনিবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে নাফ নদীর বদরমোকাম মোহনায় নাইক্ষ্যংদিয়ায় ওই ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার সময় নাফ নদীর মাঝপথে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ভর্তি একটি ট্রলারকে মিয়ানমার থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে কেউ হতাহত না হলেও ট্রলারটি দ্বীপে আসতে পারেনি। এতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সংকট দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেই আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাই এ নৌপথে ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বিজিবির টহল জোরদার করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, শনিবার টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া খাল থেকে পণ্যসামগ্রী ভর্তি করে ‘এসবি রাফিয়া’ ট্রলারটি চারজন মাঝিসহ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। মাঝপথে পৌঁছালে মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে ট্রলারের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তখন ট্রলারে থাকা মাঝিরা শুয়ে পড়েন। এ সময় ট্রলারটিকে লক্ষ্য করে ২০-৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। পরে মাঝি মোহাম্মদ বেলাল ট্রলারটি ঘুরিয়ে নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে নোঙর করে।
বিজিবির টেকনাফের-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গুলির বিষয়টি শুনেছি। সার্ভিস ট্রলারকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বিজিপির কাছে প্রতিবাদ লিপি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিন থেকে কোস্টগার্ডের স্পিড বোটে ফেরার পথে টেকনাফের নাফ নদের মোহনায় পৌঁছালে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গুলি বর্ষণ করে। কমপক্ষে ২০-২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ওই এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে বলে জানা গেছে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরাই গুলি ছুড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।