মানুষের মুখে হাসিই তার পুরস্কার, সম্মাননায় ‘মানবিক আনসার’ সরোয়ার
কেউ স্বীকৃতির জন্য কাজ করেন, কেউ করেন দায়িত্ববোধ থেকে। তবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য সরোয়ার বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক পথ। অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া এই মানুষটি এবার পেয়েছেন তার সেবামূলক কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ-এর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন সরোয়ার। মানবকল্যাণে তার নিরলস অবদান এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরোয়ার বছরের পর বছর ধরে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। কখনো পথশিশুর মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, কখনো অসহায় মানুষের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। মানবিকতার এই চর্চাই তাকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘মানবিক আনসার’ হিসেবে পরিচিত করেছে।সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সরোয়ার বলেন, মানুষের সেবা তার কাছে কোনো পদ-পদবি বা জনপ্রিয়তা অর্জনের মাধ্যম নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, মানবতার কল্যাণে কাজ করা একজন মানুষের নৈতিক দায়িত্ব এবং স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম উপায়।তার ভাষায়, “মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি চাই, আমার কাজ দেখে আরও মানুষ সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ হোক।”সহকর্মীরা জানান, দায়িত্বশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে সরোয়ার সবার কাছে একজন ব্যতিক্রমী সহকর্মী হিসেবে পরিচিত। মানবিক সংকটে তিনি সবসময় সবার আগে এগিয়ে আসেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূলমন্ত্র ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা’-এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন সরোয়ার। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং মানবসেবায় নিয়োজিত সকল মানুষের জন্য একটি অনুপ্রেরণার বার্তা।মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলা সরোয়ার প্রমাণ করেছেন, মানবতার সেবাই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।