বন্যার পানিতে ভেসে যায়নি মানবতা, চট্টগ্রামে ২৫০ পরিবারের পাশে ‘বন্ধুত্বের বাংলাদেশ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ যখন মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে, তখন মানবিক সহায়তার হাত হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় আশ্রয়। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের শত শত পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে দিতে এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বন্ধুত্বের বাংলাদেশ।সংগঠনটির উদ্যোগে বন্যাকবলিত এলাকার ২৫০টি পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্ভোগে থাকা মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ছয়টি পৃথক স্থানে স্বেচ্ছাসেবীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন। বন্যার কারণে কর্মহীন ও সংকটে পড়া পরিবারগুলো এ সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে।ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, অনেক এলাকায় পানি ও কাদার কারণে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়লেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে অংশ নেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা।সংগঠনের নেতারা বলেন, এই উদ্যোগ কোনো একক প্রচেষ্টার ফল নয়। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ী, দাতা সদস্য এবং মানবিক মানুষদের সহযোগিতায় বন্যার্তদের জন্য এই সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। মানুষের আস্থা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগের সময়ে এমন সহমর্মিতামূলক কার্যক্রম শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে নতুন করে সাহস ও আশার সঞ্চার করে।মানবতার সেবায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বন্ধুত্বের বাংলাদেশ সকলকে সমাজের অসহায় ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি মানবিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে।