fbpx
হোম সংবাদ ২৪ ঘন্টা কি আছে গলি বয় রানার গানে?
কি আছে গলি বয় রানার গানে?

কি আছে গলি বয় রানার গানে?

60
0

কি আছে গলিবয় রানার গানে?

১০-১১ বয়সের এই গলিবয়খ্যাত রানার নাম এখন সবার মুখে মুখে। তার গাওয়া ঢাকাইয়া গলিবয় র‍্যাপ গানে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। আমরা সচরাচর শুনে থাকি এ ধরনের গানে কি বলা হচ্ছে তা অস্পষ্ট। কিংবা সুরের মধ্যে কোন আকর্ষণ থাকেনা। নির্দিষ্ট কিছু শ্রোতা আছে যারা এই জাতীয় ভিন্ন স্টাইলের সুরকে পছন্দ করেন। কিন্তু গলিবয় রানা এই সুরে ভিন্ন একটি বিষয়কে তুলে এনেছে তার কন্ঠে। র‍্যাপ গানেও যে জীবনের চিত্র তুলে ধরা যায় তারই প্রমাণ মিলেছে ঢাকাইয়া গলিবয় গানে। গলিবয় রানার বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গির চর এলাকায়। মা সেতারা বেগমের চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট রানা। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন আর রানা ফুল বিক্রি করে।

গলিবয় রানার প্রথম গানটি গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এবং সম্প্রতি তার কন্ঠে গলিবয় রানা পার্ট-২ নামে আরো একটি গান ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গান দুটোর গীতিকার ও সুরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মাহমুদ হাসান তবিব। মুলত তিনিই গলিবয় রানা ভাইরাল হওয়ার আসল মাধ্যম।

গান যে শুধু প্রেম কিংবা বেদনায় সীমাবদ্ধ তা নয়। বিভিন্ন প্রকার বা বিভিন্ন ঘরানার গানের মধ্যে জীবনমুখী গান হচ্ছে আর একটি ব্যতিক্রমী গানের জগৎ। গলিবয় রানার দুটো গানই মুলত জীবনমুখী গানের অন্তর্ভুক্ত। তবে একটু ব্যতিক্রম সেটি র‍্যাপ স্টাইলের।
কিন্তু কি আছে তার গানে, যে জন্যে তার গান ও নাম সাধারণদের মুখে মুখে!
গানের শুরুর দিকে মাহমুদ হাসান তবিব গলিবয় রানার কন্ঠে ‘মনের কথা বলি’ বাক্য দিয়ে গানের ভেতরে তার অবস্থার কথা বর্ননা করেন।

“আমার অনেক ইচ্ছা ছিল স্কুলে যামু,
তিনবেলা ভাত মাছ পেট ভইরা খামু।
আমার লাইগা নতুন একটা
কালা প্যান্ট কিইনা,
নতুন একটা শাড়ি কিইনা
মার হাতে দিমু”।

“এক মাস সেহরি খায়া
রোজা রাখা সোজা,
আমি রানা হারা বছর
সেহরি ছাড়াই রোজা”।

“আস্তে আস্তে বল করুম
পারলে মারো ছয়,
আমি কামলা খেটে যামু
তোমরা কইরো জয়”।

পুরো গানটিতে লেখক রানার কন্ঠ দিয়ে একটি নিগৃহীত সমাজের অবস্থা তুলে ধরেছেন। বর্তমান সময়ের গানগুলোতে যে বিষয়গুলো আড়ালেই থেকে যায়। আর রানাই ছিল তার বাস্তব সাক্ষী। রানার ইচ্ছা, বাসনা কিংবা কষ্টের কথা যাই বলিনা কেন, তার জীবনটা যে একটা বড় উদাহরণ তা এই গানে ফুটে উঠেছে। রানা যে সমাজ থেকে বড় হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে একটি অবহেলিত সমাজ। রানা হয়ত লেখকের কাছাকাছি না গেলে তার এই জীবনের চিত্র বের হতনা। হয়ত এই কারণেই আজ সে পরিচিত গলিবয় রানা হিসেবে।

একইভাবে গলিবয় রানা পার্ট-২ তে রানার কণ্ঠে গানটির বিশেষ কিছু লাইন তুলে ধরা হলো যেগুলোর অর্থ আরো গভীর।
যেমনঃ

“সুকান্ত বুঝেছিল আমাদের ব্যথা
লিখেছিল কবিতায় ক্ষুধাতুর কথা।
তিনদিন হয়ে গেল পেট ভরে খাই নাই
মানুষের কাছে কিছু লজ্জায় চাই নাই।
এভাবেই বেঁচে আছি ক্ষুধা নিয়ে পেটে
মাটি কেটে ইট ভেঙ্গে দিনরাত খেটে”।

“কার কাছে করবো আল্লাদি আবদার
একা মা কোনমতে টানছে এ সংসার।
আমি রানা আমার সবটা জানা
আমার মত আছে হাজার রানা
এক গান গেয়ে আমি আজ ভাইরাল
বাকি রানাদের বলো কি হবে কাল।

অর্থাৎ এই গানের মধ্য দিয়ে শুধু যে শিশু শ্রমের বিষয়টি ফুটে ওঠেছে তা নয়। ভিন্নমাত্রার এই সুরের মধ্যে রচিত হয়েছে গানের নতুন মাইলফলক।

উপেক্ষিত সমাজের একটা শ্রেণীর জীবন গল্প বরাবরই কবিতা কিংবা গল্পের পাতায় ঠাঁই পায়, এর বেশী কিছু যে তাদের ভাগ্যে নেই তা স্পষ্ট। নেহাত আলাদিনের চেরাগের মত ভাগ্য খুলে যাওয়ার বাইরে তাদের ভাগ্য যেন এমই থাকে। লজ্জায় হাত না পাতা, কারো কাছে কিছু না চাওয়া, তিনবেলা উপোস থাকা ইত্যাদি তাদের জীবনের এক ধারাবাহিক চিত্র বের হয়ে এসেছে এই গানে। গানের অন্যতম একটি দিক হলো, গলিবয় রানার কন্ঠে শুধু এক রানার গল্পের কথা বলতে গিয়ে হাজারো রানার কথা গানে তুলে এনে তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে সেই বিস্ময়কর প্রশ্ন আজ আমাদের ভাবিয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত। কারণ কঠিন বাস্তবতা এই যে, রানা না হয় তার জীবন তার প্রতিভার গুণে পরিবর্তনের হাল ধরতে পারবে, কিন্তু আর বাকি সব রানাদের কি হবে?

(60)

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।