একটি রাষ্ট্র কাঠামো রাতারাতি বদলায় না।
সত্যিকারের জুলাই-২০২৪‘ বলতে আমরা যে স্বপ্ন, আত্মত্যাগ ও অভ্যুত্থানের চেতনাকে বুঝি—বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকের কাছেই তা যেন মলিন বা দূরে সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এই অনুভূতির পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে: ১. আন্দোলনের ঐক্য বনাম শাসনের জটিলতা: জুলাইয়ে সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে সংহতি ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু শাসনদায়িত্ব আসার পর স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলীয় মতপার্থক্য এবং প্রশাসনিক জটিলতা সামনে আসে—যা আন্দোলনের সরলীকৃত আদর্শের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করে। ২. অপেক্ষা ও বাস্তবতার ফারাক: একটি রাষ্ট্র কাঠামো রাতারাতি বদলায় না। বিচার, সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এই ধীরগতি হতাশা তৈরি করছে, বিশেষ করে যখন মূল্যস্ফীতি বা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। ৩. নানা পক্ষের দখলদারি: কোনো বড় পরিবর্তনের পরে শূন্যস্থান পূরণ করতে বিভিন্ন গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা মূল চেতনাকে বিকৃত করতে পারে। ‘কে এই জুলাইয়ের প্রকৃত উত্তরাধিকারী’—এই দ্বন্দ্বও বর্তমান বিশৃঙ্খলার অংশ। তবে, ইতিহাসের মাপকাঠিতে এটি অত্যন্ত স্বল্প সময়। ‘জুলাই’ কোনো স্থির প্রাপ্তি নয়, বরং একটি প্রক্রিয়া। সত্যিকারের জুলাই টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের নির্বাচন, ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কতটা স্বচ্ছ হয় তার ওপর। বর্তমান হতাশা হয়তো ক্রান্তিকালেরই অংশ—যেখানে পুরনো কাঠামো ভেঙেছে, নতুনটি এখনও পূর্ণতা পায়নি। জুলাইয়ের চেতনা এখনও জীবন্ত; কারণ যে সমাজ নিজের বর্তমান নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সেটিই পরিবর্তনের জন্ম দিতে পারে।
Like
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry