কমরেড মণি সিংহের জীবনসংগ্রাম অনুসরণ করেই মানবমুক্তির আন্দোলন অগ্রসর ও দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীলদের মোকাবিলা করতে হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স কমরেড মণি সিংহের জীবনসংগ্রাম অনুসরণ করে মানবমুক্তির আন্দোলন অগ্রসর ও দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীলদের মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সকালে উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোধাব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা, টঙ্ক আন্দোলনের মহানায়ক কমরেড মণি সিংহের ১২৫তম জয়ন্তীতে ঢাকার পোস্তগোলায় কমরেড মণি সিংহ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের পর পার্টির সূত্রাপুর থানা কমিটি আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি একথা বলেন।
সিপিবি সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি কমরেড বিকাশ সাহার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড গোলাম রাব্বী খানের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা, শ্রমিক নেতা আসলাম খান, সাবেক ছাত্রনেতা সামসুল আলম, সিপিবি সূত্রাপুর থানা কমিটির সরকারী সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল।
কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে আজ চরম সংকট চলমান। অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়েছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশনে একের পর এক দেশবিরোধী সর্বনাশা বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর পরামর্শে রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় হাটছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে চার কোটি কর্মক্ষম মানুষ বেকার, ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী ও দক্ষিণপন্থীদের উত্থান ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে, কিন্তু সরকারের টনক নড়ছে না। দেশের আইন-শৃঙ্খলা নাজুক অবস্থায়। তাই আজ কমরেড মণি সিংহের সাম্যবাদী আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন অনুসরণ করে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও শোষণ-বঞ্চনার মূল কারিগর সাম্রাজ্যবাদ,পুঁজিবাদ এবং তাদের সৃষ্ট মৌলবাদ, লুটেরা ব্যবসায়ী, লুটেরা আমলা এবং লুটেরা রাজনীতির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের মুক্তি, সমাজের মুক্তি এবং প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম পরিচালনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এই জাতীয় কর্তব্য পালনে কমিউনিস্ট পার্টি ও বামপন্থী শক্তি সম্মিলিতভাবে মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড বিকাশ সাহা বলেন, কমরেড মণি সিংহ কিশোর বয়সে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে যুক্ত হন। তরুণ বয়সে তিনি কলকাতার মেটিয়াবুরুজে বস্ত্রকল শ্রমিকদের প্রিয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন এবং ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের পশিাপাশি মানুষের মুক্তির জন্য মার্কসবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবিচল ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলন গড়ে ওঠে। কমরেড মণি সিংহ ছিলেন টঙ্ক আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে কমরেড মণি সিংহ কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতীক। দীর্ঘ কারাবাস, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আপোসহীন লড়াই, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার নিরলস সংগ্রাম এবং সংগঠন গড়ে তোলার অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
অন্য বক্তারা বলেন, কমরেড মণি সিংহ মনে করতেন সবার জন্য উন্নত জীবন না হলে উন্নত সমাজ হয় না। দেশপ্রেমের অর্থ হলো দেশের সব মানুষের খাবার-কাপড়-ঘর, চিকিৎসা-শিক্ষা এবং মন খুলে কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করা। আটচল্লিশের ভুখা-মিছিল, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে কমরেড মণি সিংহের নেতৃত্বে কমিউনিস্টদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রাজশাহী কারাগার ভেঙে ছাত্রজনতা তাঁকে মুক্ত করে। এরপর তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মনিয়োগ করেন এবং ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠন করে যুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বক্তারা আরো বলেন, কমরেড মণি সিংহ রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামে যেমন জীবন্ত এবং অগ্রণী ছিলেন ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সততা ও নিষ্ঠা ছিল অনুকরণীয়। তাঁর আত্মত্যাগ, সাহস আর জীবনসংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিত্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
দিনের শুরুতে ১২৫তম জয়ন্তীতে কমরেড মণি সিংহ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করে বাংলাদেশের কম…
— রুহিন হোসেন প্রিন্স