fbpx

বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল

শনিবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২০; ১২ই মাঘ, ১৪২৬; ২৯শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১
হোম বাণিজ্য দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদেরকে প্রথম করেছে: মোহাম্মদ ইব্রাহীম
দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদেরকে প্রথম করেছে: মোহাম্মদ ইব্রাহীম

দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদেরকে প্রথম করেছে: মোহাম্মদ ইব্রাহীম

33
0

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক বাতির জগতে আধুনিকায়নের পথিকৃৎ সুপারস্টার গ্রুপ (এসএসজি)। এসএসজি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোহাম্মদ ইব্রাহীম সম্প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আইসিই বিজনেস টাইমস ম্যাগাজিনে। সুপারস্টার গ্রুপের বেড়ে ওঠার গল্প অনুপ্রেরণামূলক। সাক্ষাৎকারটি চেঞ্জ টিভি.প্রেসের জন্য ভাষান্তর করেছেন আমিনুল ইসলাম শান্ত।

 আইসিই বিজনেস টাইমস: আপনার ভিশনটা কী ছিল- যা আপনাকে সুপারস্টার গ্রুপ (এসএসজি) প্রতিষ্ঠা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল? আপনার স্বপ্ন কিভাবে প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব পেল এবং কিভাবে বছরের পর বছর সুনামের সাথে এর  কার্যক্রম অব্যাহত আছে?

মোহাম্মদ ইব্রাহীম: এসএসজি (সুপারস্টার গ্রুপ) যাত্রা শুরু করে ১৯৯৪ সালে । যদিও শুরুটি ছিল তৎকালীন পারিবারিক  চাহিদা পূরণের নিমিত্তে;  কিন্তু আমার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ব্যবসাকে একটি কর্পোরেট সংগঠনে পরিণত করা যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। ব্যবসায় সফলতার ধারাবাহিকতায় আমরা এখন একটি আইএসও সনদধারী কোম্পানি। এসএসজি প্রতিষ্ঠা করেছে ৯টি সুসজ্জিত প্রকল্প যা প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে ‘আর এন্ড ডি’ তথা রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায়।

আধুনিক হাই-টেক এসএসজি বৈদ্যুতিক এক্সেসোরিজ কারখানাসহ ৭০০০০ বর্গফুট কর্মক্ষেত্র রয়েছে, যা বাংলাদেশে এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বৃহৎ, দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী, অনুকরণীয় এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ধারায় সম্পৃক্ত।

তৎকালীন আমদানি নির্ভর স্থানীয় বাজার, অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা, স্বংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ জনবলের অভাব এবং বাংলাদেশে মানসম্পন্ন উৎপাদনের সংকট বিবেচনায় চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধানটি দূর করার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই বিপ্লবী ধারা । পরবর্তীতে সাফল্যের কীর্তিগাঁথায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘প্রথম পুরষ্কার’ অর্জন করে এসএসজি। আমাদের চলমান স্বপ্নের প্রকল্প, ফ্যান ফ্যাক্টরিসহ পাঁচটি কারখানা নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘এসএসজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’- যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) কর্তৃক এলইডি প্ল্যাটিনাম (LEED PLATINUM) প্রশংসাপত্র পেয়েছে এবং এটি বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ও বিরল অর্জন।

আমাদের লাইটিং এন্ড ইলেক্ট্রিক এক্সেসোরিজ শিল্প দেশব্যাপী সৃষ্টি করেছে বৃহত্তম খুচরা বিক্রয় ও বিতরণ নেটওয়ার্ক যা সম্পৃক্ত করেছে ১ লাখেরও বেশী আউটলেট। এই বৃহৎ শিল্প প্রয়াসে যুক্ত হয়েছেন ৪৫০০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা- কর্মচারী, যাদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছি এবং একটি ছোট পরিবার থেকে বর্তমানে আমরা ৪৫০০ জনেরও বেশি পরিবারের একটি সমন্বিত পরিবার।

আইসিই বিজনেস টাইমস: শুরু থেকেই এসএসজি দেশের বৃহত্তম ব্র্যান্ডগুলোর অন্যতম একটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আপনার বিশ্বাসটা কী, প্রতিষ্ঠানের কোন দিকগুলো এসএসজিকে সুনিপুণভাবে বাড়তে সহায়তা করেছিল?

 মোহাম্মদ ইব্রাহীম: প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই কোম্পানি বিশ্বাস করে, সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে। সে সঙ্গে এসএসজি বি ২ সি, বি ২ বি এবং বি ২ জি বিক্রয় চ্যানেলের মাধ্যমে সরবরাহ করে এমন সেবা, যা গ্রাহক ও ক্রেতাদের মাঝে  “ছোট- বড়” বিভাজন না করে  সেরা মানের সেবা প্রদান করে। আর আমাদের কর্মীদের অঙ্গীকার ও সর্বোত্তম  পেশাদারিত্বের অনুশীলন এসএসজির একটি মৌলিক দিক যা প্রতিষ্ঠানকে সুনিপুণভাবে বাড়তে সহায়তা করেছিল।

আইসিই বিজনেস টাইমস: আপনার নেতৃত্বের স্টাইলটি কী? নেতৃত্বের গুণাবলী কীভাবে আপনাকে বছরের পর বছর ব্যবসার  চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে সাহায্য করেছিল?

 মোহাম্মদ ইব্রাহীম: আমার নেতৃত্ব শৈলী আমার দূরদর্শী ধারণার অংশ। সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাথে সুদক্ষ কার্যকর টিম স্পীড প্রতিনিয়ত সাহস যুগিয়েছে এবং আমাকে অব্যাহতভাবে সকল চ্যালেঞ্জ নিরূপণ ও নিরসন করতে সহায়তা করেছে।

 আইসিই বিজনেস টাইমস: বর্তমানে আপনি একজন স্বনামধন্য শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে দেশে-বিদেশে স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব। আপনার এই অবস্থানে আসতে কে সর্বাধিক সহায়তা করেছে?

 মোহাম্মদ ইব্রাহীম: এই ক্ষেত্রে আমি অনুভব করি, এটি আমার পরিবারে অনুপ্রেরণা এবং আমি যে টীমের সাথে কাজ করি সেই টীমের অবদান।

আইসিই বিজনেস টাইমস: একজন নেতা হিসাবে আপনার কর্মীদের মধ্যে কী কী গুণ বৈশিষ্ট্য প্রত্যাশা করেন?

 মোহাম্মদ ইব্রাহীম: আমি একজন উদীয়মান কর্মীর মধ্যে উজ্জ্বল মনোভাব এবং মূল্যবোধ দেখতে চাই। অর্থাৎ, সাহসী, প্রতিক্রিয়াশীল, উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন, চিন্তার প্রসারতা, মানবিক বোধ সম্পন্ন, প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ, উজ্জ্বল এবং কঠোর পরিশ্রমী কর্মী আমার পছন্দ।

আইসিই বিজনেস টাইমস: এসএসজির মতো কোম্পানির একটি বৃহৎ দক্ষ কর্মচারী বেস (base) থাকা  প্রয়োজন। আপনি কি বর্তমান কর্মশক্তির দক্ষতা স্তর নিয়ে সন্তুষ্ট? কীভাবে আমারা বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কর্মীদের দক্ষতার স্তর বৃদ্ধি করতে পারি?

মোহাম্মদ ইব্রাহীম: এসএসজিতে বর্তমানে ৪৫০০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা- কর্মচারী রয়েছে। আমি আমার বর্তমান টীমের দক্ষতা স্তরের সাথে সন্তুষ্ট; কারণ তারা আমার পরিবারের অংশ এবং আমরা যখন আমাদের টীম সদস্যদের নিয়ে কথা বলি তখন আমরা খুব পেশাদার স্টাইলটি অনুসরণ করি। তবে উন্নত হওয়ার এবং সর্বদা সর্বোত্তম অনুশীলন বজায় রাখার জন্য আমরা সবসময়ই কর্মচারী প্রশিক্ষণে মাঝারি ধরনের  বিনিয়োগ করি এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত করার পরিকল্পনাও নিয়েছি।

 আইসিই বিজনেস টাইমস: সুপারস্টার গ্রুপের ক্রমাগত উদ্ভাবন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলি ধারায় সম্পৃক্ত থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আপনি কি এসএসজির  আর এন্ড ডি (গবেষণা ও উন্নয়ন) বিষয়ক তথ্য শেয়ার করবেন?

মোহাম্মদ ইব্রাহীম: এসএসজির ব্যবসায় মৌলিক পণ্যগুলি প্রযুক্তির উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে  প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলি একটি খুব সাধারণ ঘটনা। সুতরাং আমরা সর্বদা বিশ্বাস করি, আমাদের বিদ্যমান পণ্যগুলির ক্রমাগত আপ-গ্রেডেশন। আর উদ্ভাবনকে আমরা সর্বদা স্বাগত জানাই ।

আমারা গবেষণা ও উন্নয়নের উপর ব্যাপক জোর দিয়েছি। আমাদের নিকট লাইটিং এবং বৈদ্যুতিক এক্সেসোরিজ শিল্পের জন্য বাংলাদেশের বৃহত্তম ‘আর অ্যান্ড ডি’ সুবিধা রয়েছে। আমরা আমাদের ল্যাবে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখি। আরো নতুন কয়েকটি ল্যাব স্বীকৃতির প্রক্রিয়াধীন।

আইসিই বিজনেস টাইমস: এসএসজি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ ভিশন কী?

মোহাম্মদ ইব্রাহীম: আমি চাই এসএসজি বাংলাদেশে একটি টেকসই শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসাবে উদাহরণ হয়ে থাকবে এবং দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সম্পদ হিসেবে টিকে থাকবে। এসএসজি যেমন স্থানীয়ভাবে সফল , তদ্রুপ  দেশের সীমানার বাইরেও  ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রসারিত করছে।  অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে ভালো অবদান রাখাই আমার বর্তমান টার্গেট।

 

(33)

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
4

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।