Site icon changetv.press

সিরাজগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে নিখোঁজ গৃহবধূকে গুমের অভিযোগ

পারিবারিক দ্বন্দ্বে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ রহিমা (৩২) কে নির্যাতন করে গুমের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ভুক্তভোগী গৃহবধূ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের কাংলাকান্দা গ্রামের রহম আলীর মেয়ে।

১২ বছর আগে একই উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর গ্রামের মৃত লবিন এর ছেলে দ্বীন ইসলাম (৩৫) এর সাথে রহিমার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ১০ এবং ৭ বছর বয়সী দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

রহিমার বাবা জানান, তার জামাতা গাজীপুরে একটি গার্মেন্টস এ চাকরি করে। তাদের ছোট মেয়ে হাফিজাসহ (৭) স্বামী-স্ত্রী গাজীপুর মহানগরীর লক্ষীপুরার হোসাইনিয়া মাদ্রাসা এলাকায় নজেসের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। আর বড় মেয়ে খাদিজা (১০) নানা নানীর সাথে গ্রামেই থাকে। দ্বীন ইসলাম একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সে নেশার টাকার জন্য প্রায়ই তার মেয়ে রহিমাকে চাপ দিত এবং নির্যাতন করতো।

গত ২১ জুন সকালে দ্বীন ইসলাম তাকে মোবাইলে জানায় যে, তার মেয়েকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে বাসযোগে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু রাত পর্যন্ত মেয়ের কোন খোঁজ না পেয়ে তারা দ্বীন ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে সে একেকবার একেক কথা বলে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত রহিমা নিখোঁজ রয়েছে। ইতিমধ্যে রহিমার হত দরিদ্র কৃষক বাবা মেয়ের খোঁজে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুজি করে হতাশ হয়ে পড়েছেন। মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে অবশেষে তিনি ৩ জুলাই গাজীপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বর্তমানে দ্বীন ইসলাম গাজীপুরের ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছেন। বাবার সাথে গ্রামের বাড়িতে থাকা ছোট মেয়ে হাফিজা (৭) জানায়, বাবা- মায়ের ঝগড়া হওয়ায় বাবা তার মাকে মারধর করে। পরদিন মা বাসা থেকে বের হয়ে যায়। আর ফিরে আসেনি। এদিকে মেয়ের চিন্তায় রহিমার মাসহ পরিবারের সকল সদস্য চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে এ প্রতিবদকে বলেন, “যেহেন থাইকা পারেন আপনেরা আমার মেয়েটারে আইন্ন্যা দেন। ওরে যুদি মাইরাও ফালায় তাও ওর লাশটা আমারে আইন্ন্যা দেন।”

দ্বীন ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্ত্রীর অন্য কারো সাথে সম্পর্ক আছে। সে পরিকল্পিত ভাবে কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। তিনিও স্ত্রীকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন এবং এ বিষয়ে গাজীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

গাজীপুর সদর থানার এস আই সরোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত গৃহবধূ রহিমার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার স্বামী দ্বীন ইসলামও গাজীপুরে নেই। রহিমার পরিবার এবং এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে যেন দ্রুত গৃহবধূ রহিমার সন্ধান পাওয়া যায়।

(0)

Exit mobile version