মধ্যরাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি এমন মন্তব্য করে।
নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন আছে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। সেই অনুযায়ী রাতের বেলা কোনো নাগরিককে ঘর থেকে তুলে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা বেআইনি।
তিনি বলেন, যে সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তিনি যদি সন্দেহের তালিকায় থাকতেন, তাহলে তাঁকে নজরদারিতে রাখা যেতো। অথবা ‘অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায়’ পুলিশ অভিযান চালাতে পারতো। আরও গুরুতর মনে হলে ম্যাজিস্ট্রেট তার বাসা সিলগালা করে দিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মধ্যরাতে ‘দরজা ভেঙে’ একজন নাগরিককে তুলে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেওয়াটা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক ও তার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের ‘নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের’ বিষয়ে প্রতিবেদন করে আসছিলেন আরিফুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে নিউজ করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে ডিসি সুলতানা পারভীনের অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন তৈরি করেন আরিফুল। এ কারণে আরিফুলের ওপর আরও ক্ষুব্ধ হন তিনি।
(40)