Site icon changetv.press

বাংলাদেশের একটি গ্রামের নাম ‘জাপানি গ্রাম’

একটি গ্রামের নাম ‘পয়সা’। এ গ্রামের প্রায় প্রতিবাড়ি থেকেই একাধিক সদস্য জাপানে থাকেন। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নে এই গ্রামের ঠিকানা।

পয়সা গ্রামের লোকজন বেশি পরিমাণে থাকেন জাপানে। আর এ কারণেই লৌহজং উপজেলাবাসীর কাছে এই গ্রামটি নাম পেয়েছে ‘জাপানি গ্রাম’ হিসেবে।
জানা যায়, ১৯৮৭ সালের পয়সা, মাইজগাঁও, শুরপাড়া থেকে প্রথম জাপানে যান ফারুক হোসেন বেপারী, আ. মালেক সারেং। এরপর ফারুক বেপারী, আহসান, মোজাফফর কাজী, বাদল চাকলাদার, বাবুল শেখ ও মালেক  সারেং এর সহযোগিতায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় লোকজন জাপানে যাওয়া শুরু করেন। পয়সা মাইজগাঁওসহ ইউনিয়নের প্রায় প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে ১৫০০/২০০০ লোক জাপানে যান।

১৯৯৫ সালের ভয়াবহ টর্নেডো পয়সা, মাইজগাঁও  গ্রামসহ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ঘরই গুড়িয়ে করে দেয়। নিহত হন পয়সা গ্রামের ১০ জন, আর পুরো ইউনিয়নে নিহত হন ২৫ থেকে ২৬ জন।  জাপানি প্রবাসীদের অর্থায়নে কিছুদিনের মধ্যেই আবার ঘুরে দাঁড়ায় গ্রামটি।

পয়সা, মাইজগাঁও ধারার হাট, শুরপাড়ার প্রতিটি বাড়িই তৈরি হয়েছে জাপানি অর্থে। এসব বসতবাড়িগুলো অনেক ব্যয়বহুল এবং দৃষ্টিনন্দন।  ঠিক চোখে তাক লাগানোর মতো।

পয়সা, মাইজগাঁও গ্রামে জন্ম নেওয়া উজ্জ্বল ও আলোকিতদের মধ্যে রয়েছেন- দানবীর ইয়ানুছ শেখ মাইজভান্ডারি, কালের কণ্ঠ সম্পাদক কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কার্যকরী পরিষদের পরিচালক, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও উষা ক্রীড়াচক্র’র সাধারণ সম্পাদক, লৌহজং আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ শিকদার।

কথিত আছে, যে লোক কোনদিন ঢাকায় যায়নি তিনিও জাপানে গেছেন। জমি চাষ করার মুহূর্তে ধরে এনে জাপানে পাঠিয়েছেন। এক পরিবার থেকে ৬ থেকে ৭ জন সদস্য জাপান গেছেন।

(0)

Exit mobile version