Site icon changetv.press

পীরের নির্দেশে জায়গা থেকে সরে গেলো গাছ !

শত শত বছর ধরে প্রচলিত নানা গল্প কিংবা কাহিনী এখনো গেঁথে আছে দেশের নানাপ্রান্তে। সেসব কাহিনী সত্য না মিথ্যা—এই প্রশ্নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা। অনেক প্রচলিত কাহিনী দৃশ্যত বিরল মনে হলেও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে এখনো মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। তেমন কাহিনীর এক উপাদান কিশোরগঞ্জের শিমুল গাছ।

ব্যক্তির কথায় গাছের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে যাওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। প্রচলিত আছে, আজ থেকে প্রায় শত বছর পূর্বে এমনই এক অদ্ভুদ ঘটনা ঘটেছিল কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গড়মাছুয়া টানপাড়া গ্রামে।

সেখানকার মানুষজন এখনো বিশ্বাস করেন, পাকুন্দিয়া উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের মাওলানা আব্দুল হালিম হুসাইনী (রহ.) নামে এক ওলির কথায় একটি শিমুল গাছ রাস্তা ছেড়ে পাশে সরে গিয়েছিল। এ ইতিহাসকে আকঁড়ে ধরেই হোসেনপুর-হাজীপুর সড়কের পাশেই শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে দাঁড়িয়ে আছে ওই গাছটি।

স্থানীয় সূত্র মতে, বহু বছর পূর্বে মাওলানা আব্দুল হালিম হুসাইনী (রহ.) উল্লেখিত স্থানের কাছাকাছি কোনো এক মসজিদে তাবলীগের কাজে যাওয়ার সময় পথে একটি শিমুল গাছ দেখতে পান। যার শিকড় রাস্তার মাঝ বরাবর, অন্যপাশে চলে যাওয়ার উপক্রম। যার ফলে মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু অজানা কোনো কারণে গাছটি কাটা হয় না। এলাকার কয়েকজন মানুষ আব্দুল হালিম হুসাইনী (রহ.)-কে বিষয়টি অবহিত করেন।

পরের দিন তিনি উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীরকাটীহারী গ্রামের হাফেজ লুৎফর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এই শিমুল গাছের নিচে গিয়ে তাকে পবিত্র আল কোরআনের সূরা মোজাম্মেল পাঠ করতে বলেন। পরে তিনি আল্লাহর নাম নিয়ে গাছকে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার হুকুম করেন। চোখের পলকেই শিমুল গাছটির শিকড় মানুষ চলাচলের পথ খুলে দিয়ে উল্টো দিকে সরে যায়।

অন্য আরেক সূত্র মতে, শিমুল গাছটির মালিকানা নিয়ে যখন দুপক্ষের তুমুল ঝগড়া ও বিরোধের সৃষ্টি হয় তখন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা হাজির হন হালিম হুসাইনী মাওলানার নিকট। তিনি আল্লাহর নাম নিয়ে যার গাছ তার জায়গায় চলে যাওয়ার কথা বললেন। গাছটি তখনই প্রকৃত মালিকের জায়গায় চলে যায়।

অলৌকিক এই শিমুল গাছটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি মসজিদ। মসজিদের ইমাম হাফেজ হাবিবুর রহমান জানান, মরহুম মাওলানা আব্দুল হালিম হুসাইণী (রহ.) আল্লাহর বিশিষ্ট ওলিদের মধ্যে একজন। জীবদ্দশায় বহু অলৌকিকত্বের নিদর্শন রেখে গেছেন তিনি। যার একটি হচ্ছে উনার নির্দেশে অলৌকিকভাবে সরে যাওয়া শিমুল গাছ। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ অলৌকিক এ গাছটিকে দেখতে আসছে।

প্রসঙ্গত, মাওলানা মরহুম আব্দুল হালিম হুসাইনি (রহ.) কিশোরগঞ্জের কৃতি ব্যক্তিত্বের মাঝে অনবদ্য আলেমে দ্বীন। তিনি ছিলেন পুরো জেলা ও নিকটতম জেলায় প্রসিদ্ধ কামেলে দ্বীন। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার নবগঠিত পাগলা থানার অন্তর্গত পাঁচভাগ ইউনিয়নের যুগের সেরা ওলি মাওলানা সামছুল হুদা পাঁচভাগী (রহ.) এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও জানা যায়।

(0)

Exit mobile version