পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার ভারত থেকে কোনো পিঁয়াজ আসেনি। তবে পিঁয়াজ আসা কেন বন্ধ হলো এ বিষয়ে সকাল থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ কেউ বলতে পারেননি। দেরিতে হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের খবর জানিয়েছে ভারত।
এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হলো, ১৯৯২ সালের ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবধরনের পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে। তবে পিঁয়াজের কাঁটা টুকরা ও গুঁড়া এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পিঁয়াজের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে ভারত নিজ দেশের বাইরে পিঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভারতের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়া অঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে। এছাড়া সেখানকার বাজারে পিঁয়াজের দামও বেড়েছে।
এদিকে এমন খবরে বাংলাদেশের বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে একদিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ দাম বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা।
আমদানি বন্ধের খবরে রাজধানীসহ দেশের বাজারগুলোয় ক্রেতারা পিয়াজ কিনতে ভিড় জমায় আর খুচরা বিক্রেতারা ছোটেন পাইকারি বাজারে। এই হুলুস্থুল পরিস্থিতিতে বিক্রেতারা পিয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে দেশের বাজারে পিয়াজের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। ফলে সোমবার দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পিয়াজ আসেনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পিয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আমদানি করা ভারতের পিয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। অথচ গতকাল দেশি পিয়াজের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং আমদানি করা পিয়াজের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।
গত সপ্তাহ থেকে ভারতে পিয়াজের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও দাম বেড়ে ৪৫ টাকার দেশি পিয়াজ ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় আর আমদানি করা ভারতীয় পিয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা থেকে উঠে আসে ৬০ টাকায়।
(0)