Site icon changetv.press

পরিবেশ দপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতেই বক্তব্যে বাধা দাবি ইব্রাহীম নিরবের, মিডিয়ার অর্ধসত্যে ক্ষুব্ধ

বনভবনের ‘হৈমন্তী’ মিলনায়তনে ৬ ডিসেম্বর আয়োজিত পরিবেশকর্মী মতবিনিময় সভায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, অসম্পূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচারিত হয়েছে। এসব সংবাদে আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আমাকে মঞ্চ থেকে “ঘাড়ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া” হয়েছে বা “গালি দেওয়ার দায়ে বের করে দেওয়া হয়েছে” যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিকৃত এবং প্রমাণহীন।

গালিগালাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইব্রাহীম নিরব বলেন, “জনগণই বিচার করবে, ন্যায়–অন্যায়ের সীমা কোথায়, কার কণ্ঠে রাগ জন্মাবে আর কার চেহারায় লজ্জা ফুটে উঠবে। বাঙ্গালী আবেগ প্রবণ, যারা আপনাকে মেরে ফেলতে চাইলো, যারা আপনার গায়ে হাত তুললো তাদেরকে কী গালি দেওয়া যায় না? আমি তো বলবো আমি ঠিকই করেছি গালি দিয়ে। তাদেরকে শুয়োরের বাচ্চা বলে গালি দিয়ে শূকরের মতো একটি হারাম ও অপবিত্র প্রাণীটাকেও আমি অপমান করেছি। আমি মনে করি আওয়ামীলীগ শুকরের চেয়েও অধম। এরচেয়েও বাজে গালি দেওয়া উচিত ছিল তাদেরকে। সেটা দিতে পারি নাই বলে আমি দুঃখিত। দেশবাসীর কাছে লজ্জিত যে কেন আরও বাজে গালি দিলাম না।”

তিনি আরও বলেন, “মতবিনিময় সভা ঘিরে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কাটছাঁট করা কয়েক সেকেন্ড যেন পুরো সত্যকে গলা টিপে ধরে। যে ফুটেজে আমাকে উত্তেজিত দেখা যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তের আগে এবং পরে যা ঘটেছে, তা ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়েছে। সেই আড়ালই এখন বলছে আসল গল্প।”

ইব্রাহীম নিরব, গ্রীন বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক। ১৮ জুলাই গুম, নির্যাতন ও দীর্ঘ চিকিৎসাজনিত জটিলতা এখনো চলমান রাখতে হচ্ছে; পাশাপাশি সাম্প্রতিক ধানমণ্ডি বত্রিশে পুলিশের হামলায় নতুন আঘাতের পর তার শারীরিক অবস্থা আরও দুর্বল হয়েছে। তবুও পরিবেশ আন্দোলনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই অসুস্থ অবস্থায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হন তিনি।সভায় তার উদ্দেশ্য ছিল মুন্সীগঞ্জের নদী–খাল–বিল দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন, পরিবেশ ধ্বংস, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে চার দফা দাবি উপস্থাপন করা। সেখানে ফ্যাসিবাদের দোসরদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতের একটি দাবির লিকেজকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে। বারবার হাত তুলে বক্তব্যের বিনীতভাবে সুযোগ চাইলে সঞ্চালক ও আয়োজকদের মধ্য থেকে কেউই দায়িত্ব নেননি। তাকে একজন থেকে আরেকজনের কাছে পাঠানো হয়েছে;  এই পুরো সময়জুড়ে তাকে ফ্লোর না দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট চেষ্টা ছিল।

শেষপর্যন্ত প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে তাকে মাইক দেওয়া হলে তিনি শুরুতে নিজের পরিচয় দেন এবং দাবি উপস্থাপন শুরু করতে চান। তখনই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মাইক অকারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে মাইক কেন বন্ধ করা হলো? কিন্তু সেটা কাট করে একটি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। এতে  চাপ, গুম-নির্যাতনের ট্রমা এবং সেই মুহূর্তের ক্ষোভ মিলিয়ে তিনি গালাগাল উচ্চারণ করে বসেন। যা নির্দিষ্টভাবে লীগপন্থী সেইসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, লবিস্ট, পরিবেশ ধ্বংসে জড়িত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যেই বলা হয়; কোনো পরিবেশকর্মী বা সাধারণ উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে নয়।এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মিডিয়ার প্রচারিত ভিডিওতে শুধু একটি ক্ষুদ্র অংশ দেখানো হয়েছে, কিন্তু শেষের ফুটেজ যেখানে পরিস্থিতি শান্ত হয়, আয়োজক কমিটির সদস্যরা ইব্রাহীম নিরবের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন, তাকে সম্মান দিয়ে বসতে অনুরোধ করেন। সেটা কোথাও দেখানো হয়নি। তাকে মঞ্চ থেকে “ঘাড়ধাক্কা দিয়ে নামানো” হয়নি; বরং পরিস্থিতির অবনতির আগেই তিনি নিজেই মঞ্চ ছেড়ে নিচে নেমে আসেন। তাকে সভা থেকে বেরও করা হয়নি বরং উপস্থাপকদের একজন পরিষ্কারভাবে তাকে আসনে বসার জন্য অনুরোধ করেন।

সবচেয়ে হতাশা ব্যক্ত করে জানান, “একটি মিডিয়াও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, বক্তব্য নেয়নি, যাচাই করেনি। সরাসরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অর্ধসত্যকে পূর্ণসত্য হিসেবে চালানো হয়েছে, যা সাংবাদিকতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি, “পরিবেশ ধ্বংসে জড়িত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা অপরাধ নয়। আর জনগণই ঠিক করবে কার ক্ষোভ ন্যায্য, কার আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ।”

(0)

Exit mobile version