Site icon changetv.press

পরিচ্ছন্ন কর্মী যখন ডাক্তারের ভূমিকায় !

কুড়িগ্রামে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। মাঝে মধ্যে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই চলে যান দায়িত্বরা।

দেখভালের অভাবে নিয়মিত খোলা হয় না জেলার প্রত্যন্ত এলাকার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলো। জানা যায়, পঞ্চাশ উর্ধ্ব মিনা রাণী ভবনে ঝাড়ু দেবার কাজ করেন। পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করেই তিনি চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রেসক্রিপশন করতে না পারলেও রোগীর সমস্যা শুনেই চিকিৎসা দেন। বেশ কিছু ঔষধের নামও মুখস্থ। গেল তিন বছর ধরে এখানে কাজ করেন এই পরিচ্ছন্ন কর্মী।

এই চিত্র নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাস ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় বল্লভের খাস ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জানা যায়, ডাক্তার ডেপুটেশনে অন্যত্র সুবিধা ভোগ করছেন। উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট থাকলেও তারা নিয়মিত নয়। ফলে মিনা রাণীই রোগীদের চিকিৎসা দেন। তারা মাঝে মধ্যে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই চলে যান।

পরিচ্ছন্নতা কর্মী মিনা রাণী বলেন, ৩ বছর থেকে কাজ করছেন তিনি। রোগীর চাপ থাকলে তিনিই ডাক্তার কে সহযোগিতা করেন। মাঝে মধ্যে ডাক্তার না আসলে রোগীর ওষুধ দিয়ে থাকেন বলে জানান তিনি। একই উপজেলার জনবল না থাকায় মূল ভূ-খন্ড হতে বিচ্ছিন্ন নারায়ণপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

কেদার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, তালা দেয়া রয়েছে ভবনে। জানালার গ্লাস ভাঙ্গা। ভিতরের কক্ষে রোগীদের জন্য দেয়া বেড ধুলাবালি পড়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অবহেলা আর অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সরকারের দেয়া কোটি-কোটি টাকা সরঞ্জামাদি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৮ উপজেলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে ৫৮টি। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে ৪০টি এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে রুলার ডিসপেনসারি (আরডি)-১৮টি।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, দু’বিভাগের কর্তৃত্ব থাকায় অনিয়মের দায় এককভাবে নিতে রাজি নন তিনি। জনবল সংকট এবং কোভিড-১৯ এর জন্য চিকিৎসা সেবা দানে কিছুটা ব্যহত হবার কথা স্বীকার করেন তিনি। দ্রুত এসব সমস্যা কেটে যাবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এই বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ হাবিবুর রহমান কোন মন্তব্য করতে রাজি না হলেও ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দেন।

(0)

Exit mobile version