Site icon changetv.press

‘তার কণ্ঠে আফ্রিকার আসল পরিচয় পাওয়া যায়’

মুসলিম বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক স্টাইলে কোরান তেলাওয়াত করা হয়। তার মধ্যে আফ্রিকান স্টাইল অনন্য। একসময় মধ্যপ্রাচ্যের স্টাইল প্রাধান্য বিস্তার করলেও সোশাল মিডিয়ার কারণে বর্তমানে আফ্রিকার স্টাইলও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বিবিসির ইসমাইল কুশকুশ তুলে ধরেছেন সুদানের এরকম এক ক্বারি নূরীন মোহামেদ সিদ্দিগের তেলাওয়াতের কথা। নূরীন মোহামেদ সিদ্দিগ যখন কোরান তেলাওয়াত করতেন, সারা বিশ্বের মানুষ তার কণ্ঠে খুঁজে পেত বিষাদ, হৃদয় স্পর্শ করা আবেগ এবং ব্লু সঙ্গীতের অপূর্ব মূর্ছনা।

তার অনন্য কণ্ঠস্বর তাকে মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় সব ক্বারিদের একজনে পরিণত করেছিল। ফলে গত বছরের নভেম্বর মাসে সুদানে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৮ বছর বয়সী নূরীন মোহামেদ সিদ্দিগ যখন নিহত হন তখন পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সেই শোক ছড়িয়ে পড়েছিল।

টেক্সাসের ইমাম ওমর সোলেইমান টুইট করেন: “বিশ্ব আমাদের সময়ের সবচেয়ে সুন্দর কণ্ঠগুলোর একটিকে হারালো। বিভিন্ন ধর্মের বিষয়ে পড়ান এরকম একজন সুদানি-আমেরিকান শিক্ষক হিন্ড মাক্কি বলেন, তার গুণ ব্যাখ্যা করা খুবই কঠিন।

তিনি বলেন, “লোকজন বলে যে তার কণ্ঠে আফ্রিকার আসল পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু সেটা আসলে কী তা তারা পরিষ্কার করে বলতে পারে না এবং তারা সেটা পছন্দ করে।” তার কোরান তেলাওয়াতকে ব্লুজ সঙ্গীতের সঙ্গে তুলনা করা হয় এবং সেটা কোন আকস্মিক বিষয় নয়।

ইতিহাসবিদ সিলভেইন দিওফের মতে পশ্চিম আফ্রিকার দাস মুসলিমদের প্রার্থনা এবং তেলাওয়াতের সঙ্গে সাহেল অঞ্চল থেকে শুরু করে সুদান এবং সোমালিয়ার মুসলিমদের তেলাওয়াতের মিল রয়েছে। সেখান থেকেই হয়তো বিশেষ এই আফ্রিকান আমেরিকান সঙ্গীতের জন্ম হয়েছে যা পরে ব্লুজ সঙ্গীতে রূপ নিয়েছে।

ঐতিহ্যগতভাবে কোরান তেলাওয়াত করা হয় গান গাওয়ার মতো করে। বলা হয় ইসলামের নবী এভাবে কোরান পাঠ করার জন্য উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেছিলেন, “মানুষের কণ্ঠে কোরানের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে।”

সূত্র: বিবিসি

(0)

Exit mobile version