বিশ্ব মুসলিমদের জন্য একটি সেরা সংবাদ যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম ‘মুহাম্মাদ’ ইউরোপের পর এবার আমেরিকায়ও ব্যাপক জনপ্রিয়। আগে থেকেই ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যে নবজাতক শিশুদের জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয় নাম ছিল ‘মুহাম্মাদ’। এ তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে আমেরিকা।
যুক্তরাজ্যে বিগত ৩ বছর ধরে নবজাতক শিশুদের যত নাম রাখা হয়েছে, এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাম রাখা হয়েছে ‘মুহাম্মাদ’। শুধু মুহাম্মাদ নামই নয়, বরং নবজাতক ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রে আরবি নামের দিকেই বেশি ঝুঁকছে ইউরোপের দেশগুলো।
আরবি নামগুলোর মধ্যে ‘মুহাম্মাদ’ যে শুধু এবারই সর্বাধিক সংখ্যক রাখা হয়েছে এমন নয়, বরং ২০১৫ সালেও যুক্তরাজ্যে ‘মুহাম্মাদ’ নামটি শীর্ষস্থানে ছিল। আর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল নূহ। ইউরোপের জনপ্রিয় নাম ‘অলিভার’ গত ৯ বছর ধরে শীর্ষ ৩-এ যেতে পারেনি।
যুক্তরাজ্যের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯২৪ সাল থেকে ইউরোপে ‘মুহাম্মাদ’ নামের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। যা বর্তমানে প্রথম স্থান দলখ করে আছে।
যুক্তরাজ্যের বেবি সেন্টার শিশুদের নামের এ তালিকা নির্ণয় ও প্রকাশ করে। নামের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্যে ‘মুহাম্মাদ’ নামই সর্বাধিক রাখা হয়।
আমেরিকায় মুহাম্মাদ নাম:
‘মুহাম্মাদ’সহ আরবি নাম রাখার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের এ প্রভাব পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রথম বারের মতো ২০১৯-এ আমেরিকায় ব্যাপকহারে রাখা নাম হচ্ছে ‘মুহাম্মাদ’।
বেবি সেন্টারের নামের তালিকায় ইউরোপের যুক্তরাজ্যে মুহাম্মাদ নামটি শীর্ষ তালিকায় ছিল। আর এবার তা আমেরিকায় শীর্ষ নামের তালিকার দিকে এগুচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় নবজাতকের নাম রাখার ক্ষেত্রে এ নামটিই অগ্রাধিকার পাচ্ছে বেশি।
আমেরিকার বেসরকারি এক তথ্য গবেষণা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ‘মুহাম্মাদ’ নামটি ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯-এ ২৯% বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। মেয়েদের মধ্যে আরবি নাম ‘আলিয়া’ ও ‘লায়লা’ শীর্ষ ১০ নামে স্থান করে নিয়েছে।
২০১৩ সালে ‘মুহাম্মাদ’ নামটি আমেরিকায় শীর্ষ ১০০ নামের তালিকায় এসেছিল। ২০১৯ সালে এসে ‘মুহাম্মাদ’ নামটি শীর্ষ ১০-এ স্থান করে নিয়েছে।
ইউরোপ-আমেরিকায় ‘মুহাম্মাদ’সহ আরবি নামের ব্যাপক প্রচলনই প্রমাণ করে যে, মানুষ কুরআন ও হাদিসের দিকে খুঁজছে শান্তি ও নিরাপত্তা।
মুহাম্মাদ নাম রাখাই তার বহিঃপ্রকাশ। আর একমাত্র ইসলামই পারে শান্তি ও নিরাপত্তা দিতে |
(46)

