fbpx

বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল

শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯; ৩রা কার্তিক, ১৪২৬; ১৭ই সফর, ১৪৪১
হোম বিনোদন শাকিব খানের ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে কেন এত হৈ চৈ ?
শাকিব খানের ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে কেন এত হৈ চৈ ?

শাকিব খানের ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে কেন এত হৈ চৈ ?

21
0

‘হিন্দু না মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন জন’- এই বলে আক্ষেপ করেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। দাঙ্গায় মানুষের রক্ত ঝরছে। রক্তের রং লাল। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে মরতে দিও না।
শিরা পুড়ে গেছে বাংলা সিনেমার। ধমনীতে রক্তপ্রবাহ বন্ধ। অথচ কিছু লোক ‘পাসওয়ার্ডে’র মতো বাজার-চলতি একটা বাংলা ছবি নকল নাকি মৌলিক এই বিতর্কে লিপ্ত হয়ে মজা লুটছে।

‘বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে, আমরা তখনও বসে- বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজেছি, ফিকাহ ও হাদিস চষে ‘- কবি নজরুলেরই আরেক বিখ্যাত চরণ। পাশের দেশের রাজ্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি যখন এদেশে রফতানির বাজার খুঁজছে, তখন আমরা আসল-নকল বিতর্কে জড়িয়ে অর্থহীন সময় নষ্ট করছি।

বছর দুয়েক আগে হলেও সানন্দচিত্তে এই বিতর্কে অংশ নিতাম এবং নকলবাজদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতাম। আজ পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলা সিনেমা নকল বিষয়ক তর্কাতর্কির উর্দ্ধে চলে গেছে।

সিনেমা হল মালিকরা আল্টিমেটাম দিয়ে দিয়েছে- ‘আমাদের হিন্দি ছবি দাও’। ‘ভারতীয় বাংলা ছবি দাও’। ‘আমাদের নকল ছবি দাও’। ‘আমাদের অশ্লীল কমেডি দাও’। ‘আমাদের ভায়োলেন্স দাও’। ‘তবুও কন্টেন্ট দাও’। ‘সপ্তাহে সপ্তাহে রিলিজ দাও’।
সিনেমা হল মালিকদের হাতে হিন্দি ছবি নিশ্চয়ই আমরা তুলে দেবো না? আমরা চাই না এদেশে সালমান খানের মৌলিক ছবি চলুক। তারচেয়ে শাকিব খানের নকল ছবিও ঢের ভালো। এই নকল ছবি শত শত মানুষের রুটি-রুজি নিশ্চিত করবে। সিনেমা আমদানি করলে গুটিকয় দালাল আঙুল ফুলে কলাগাছ হবে। সিনেমা হলে তালা পড়া বন্ধ হবে না।

অন্যদিকে ‘পাসওয়ার্ডে’র মতো নকল ছবি মুমূর্ষু বাংলা সিনেমাকে সামান্য হলেও অক্সিজেন দেবে। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। ‘পাসওয়ার্ড’ এই ঈদে তৈরি না হলে কলকাতার রিমেক ছবির ছদ্মবেশে নকলগুলোই এদেশে চলতো। তখন নকলবিরোধী অনেকেই মুখে কলুপ এঁটে বসে থাকতেন।

শাকিব খান কেন নকল ছবি প্রযোজনা করলেন; এই নিয়ে কিছু মানুষের অহেতুক কথাবার্তা। শাকিব খান জীবনভর নকল ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেসব ছবি হিট, সুপারহিট এমনকি ব্লকবাস্টারও হয়েছে। যে ‘শিকারী’ দেখতে মানুষের ঢল নেমেছিল সে-ও নকল, যে ‘নবাব’ কয়েক কোটি টাকা ব্যবসা করলো সে-ও নকল; নকলকে কেন শাকিব খান বুকে টেনে নেবেন না?
শাকিব খানের প্রথম প্রযোজনা ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ নকল। শাকিব খানের ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি ‘অনন্ত ভালোবাসা নকল’। এমনকি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ও নকল। নকল ছবি যে তিনি ছুঁড়ে ফেলে দেবেন, কী এমন অলৌকিক ঘটনা তার জীবনে ঘটেছে?

শাকিব খান অভিনীত কোন মৌলিক গল্পের ছবিটা গত কয়েক বছরে ব্যবসা করেছে? আরিফিন শুভর মৌলিক ছবি ‘ঢাকা অ্যাটাক ব্যবসা করেছে। চঞ্চল চৌধুরীর মৌলিক ছবি ‘আয়নাবাজি’ ব্যবসা করেছে। সিয়ামের মৌলিক ছবি ‘পোড়া মন টু’ ব্যবসা করেছে। অন্যদের ফর্মুলা কেন শাকিব খান আঁকড়ে ধরবেন?

প্রযোজক হিসেবে শাকিব খানের মনে হয়েছে- অভিনেতা শাকিব খানের সাম্প্রতিক সমস্ত হিট ছবি যেহেতু নকল গল্পের, সেহেতু মৌলিক গল্পে ঝুঁকি রয়েছে। প্রযোজক হিসেবে তিনি ঝুঁকি নিতে চাননি। একদিকে নকল ছবি তৈরির জন্য তিনি যেমন নিন্দা পেতে পারেন, তেমনই প্রযোজকশুন্য বাজারে বিনিয়োগ করায় তাকে সাধুবাদও জানাতে হবে।

শাকিব খান যেহেতু নকল ছবিই করবেন, তার জন্য নকল ছবি তৈরিতে সিদ্ধহস্ত কারো কাছে যাওয়াই ছিল যুক্তিযুক্ত। তিনি মালেক আফসারীর কাছে গিয়েছেন। আফসারী ‘পাসওয়ার্ড’ তৈরি করে দিয়েছেন।

দর্শকরা যা করতে পারেন তা হচ্ছে ভালো না লাগলে ছবির কঠিন সমালোচনা। আলোচনা হওয়া উচিত ছবির মানকে ঘিরে। বাংলা সিনেমা দর্শকের দয়া চায় না। টিকেট কেটে ছবি দেখুন। গাল ভরে সমালোচনা করুন। ছবিকে ঘিরে বিতর্ক করুন। নকল ছবির মতো পুরনো, বস্তাপঁচা, ঘিনঘিনে বিতর্ক থেকে দূরে থাকুন। মৌলিক ছবিতে হোক, নকল ছবিতে হোক, সিনেমায় বিনিয়োগ হোক।
নতুন প্রজন্মের বহু নির্মাতা আছেন যারা মৌলিক গল্প ছাড়া কখনোই ছবি বানাবেন না। তারা দলে দলে সিনেমায় আসুন। তারা শাকিব খানের মতো নব্য প্রযোজকদের আস্থা অর্জন করুন।

মালেক আফসারী, বদিউল আলম খোকন, সোহানুর রহমান সোহানদের যুগ শেষ হয়ে এসেছে। নিভু নিভু প্রদীপকে সসম্মানে বিদায় দিন। নকলের মালা গলায় চড়িয়ে সিনেমাপাড়া থেকে তাদের বিমর্ষ বিদায় চাই না।
সবচেয়ে বড় কথা, নকলের বিরুদ্ধে গলা চড়িয়ে সিনেমায় মৌলিকত্ব প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। সুনির্মিত মৌলিক ছবিই পারে নকল ছবিকে ঠেকাতে। মৌলিক ‘নোলক’ যদি হিট হতো, কেউ নকল ‘পাসওয়ার্ডে’র খবর নিতো না। বেশি বেশি মৌলিক ছবি হিট হওয়া জরুরি। নয়তো নকলের বিপক্ষে প্রতিবাদ মাঠে মারা যেতে বাধ্য।

(21)

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।