fbpx

বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল

বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯; ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬; ২১শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১
হোম অন্যান্য বাংলাদেশের নতুন শহর কোলকাতা
বাংলাদেশের নতুন শহর কোলকাতা

বাংলাদেশের নতুন শহর কোলকাতা

86
2

ক.
কথিত আছে, “একবার ভারতের সরকার প্রধান বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে হাসতে হাসতে বলেছিলেন, আপনারা প্রখ্যাত
গায়িকা রুনা লায়লাকে দিয়ে দিন, আমরা তিস্তার ন্যায্য হিস্যা দিয়ে দেবো।” এই বক্তব্যের জবাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি বলেছিলেন তা অবশ্য জানা যায়নি।
এবার নচিকেতা চক্রবর্তী ঢাকায় এলেন। কথা প্রসঙ্গে বললেন,“ তোমরা আমাকে রেখে দাও। আমি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে থেকে যাই।” এই জীবনবাদী শিল্পীকে রেখে দিলে লোকসান হবেনা, বরং লাভই হবে। তাই যদি হয় তাহলে, বাংলাদেশের মতো দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশে শিল্প-সংস্কৃতিতে তাঁর প্রতিবাদী ভূমিকা নতুন পালক যোগ করবে। এটা নিশ্চয় সবাই স্বীকার করবেন।
পশ্চিমবঙ্গে গৌতম চট্টোপাধ্যায়-ই প্রথম ‘মুহিনের ঘোড়া’ নামে জীবনমুখী গানের সূচনা করেন। পরবর্তিতে আসেন কবির সুমন, অঞ্জন ও নচিকেতা। নচিকেতা এই ধারার সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ জনপ্রিয় শিল্পী। এখন পর্যন্ত এটাই সত্য। বাংলাদেশে জীবনবাদী ধারার গান নিয়ে খুব একটা কাজ হয়নি। বিচ্ছিন্নভাবে দু একজন করলেও সেটা ধারায় পরিণত হয়নি। সুতরাং নচিকেতাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানানো নিয়ে বির্তকের অবকাশ খুব একটা আছে বলে মনে হয়না।
খ.
প্রশ্ন অন্য জায়গায়। কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে বন্যার তোড়ের মতো প্রবেশ করছে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি। সঙ্গীত শিল্পীরা যেমন আসছেন, তেমনি আসছেন অভিনেতা-অভিনেত্রী-কবি-সাহিত্যিক-নির্মাতা। কোনো বিশেষ দিবস এলেই আমাদের টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে ভাগ বসাচ্ছেন তারা। যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা হচ্ছে। তা নিয়ে আবার প্রতারণার অভিযোগও উঠছে। নায়িকা আসছে, নায়ক আসছে, রিয়েলেটি- শো থেকে সদ্য স্নান করে আসা গায়িকাও আসছে। আবার দেশের প্রযোজকরা কোলকাতার নির্মাতাদের দাওয়াত করে এনে সিনেমাও বানাচ্ছেন। জি বাংলার মিরাক্কেলের স্পন্সর
হচ্ছে বাংলাদেশের কোম্পানী। বোঝেনা সে বোঝেনা…সিরিয়ালের পাখি ড্রেস নিয়ে চলছে তোলপার। কোলকাতার অর্ধশত চ্যানেল ফ্রি টু এয়ারের মাধ্যমে হরদম ব্যবসা করছে এখানে।

গ.
এগুলো পুরোনো কথা। নতুন কথা হলো, পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির অবস্থা একেবারে নাকাল।
সবখানে হিন্দী ও ইংরেজী ভাষার মারাত্নক আগ্রাসন। এবার তো অঞ্জন দত্ত বলেই ফেললেন, ক’দিন পর কোলকাতার মিউজিয়ামে খুঁজতে হবে বাংলা ভাষাকে। এ কারণে বাংলা চলচ্চিত্র, গান, সাহিত্যের মানুষদের নজর এখন বাংলাদেশের দিকে।
তারা উপলব্ধি করছেন, বাংলা মাধ্যমে কাজ করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশকে ধরতে হবে। কোলকাতায় জনপ্রিয় হওয়া বাংলা গানের কোনো শিল্পীর যদি বাংলাদেশে স্টেজ-শো করার অভিজ্ঞতা না থাকে, তাহলে ওই শিল্পী জাতে উঠেননি বলেই ধরে নেন
ওখানকার মানুষ। এই বাস্তবতার কারণেই তারা এখন বাংলাদেশমুখী। বিষয়টা এমন যে, ওখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি কর্মীদের দেবার কিচ্ছু নেই। কিন্তু এখানে কোলকাতার মানুষদের দেবার অনেক কিছু আছে।
ঘ.
কবি আসাদ চৌধুরী একবার পশ্চিমবঙ্গে আমন্ত্রণ পেলেন। কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে। অনুষ্ঠান উদযাপনের খবর ওখানকার কোনো জাতীয় পত্রিকাতেই এলোনা। তিন দিন পর আসাদ চৌধুরী দেখলেন কয়েকটা স্থানীয় পত্রিকা ভেতরের
পাতার অষ্টম কলামে দুই ইঞ্চির একটা খবর ছেপেছে। অথচ আমাদের এখানে ওদের নিয়ে কত হৈ চৈ !!!

ঙ.
এই রাজধানী শহরে সব বিভাগের লোকই বসবাস করে। তবে সম্ভবত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের প্রভাবটাই বেশি।
ওই অঞ্চল দুটির অনেক লোক ঢাকার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এখানে নেতিবাচক কিছু নেই। এটাই
বাস্তবতা। কোলকাতাতে যেহেতু বাংলা ভাষার এতই নাজুক অবস্থা, আর আমরাও যেহেতু ওদের উপর অতিমাত্রায় নির্ভর
হয়ে পড়েছি, সুতরাং নতুন দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করছি।

১. বাংলাদেশের নতুন বিভাগীয় শহর হিসেবে কোলকাতার নাম ঘোষণা করা হোক। এটি হলে তাদের বাংলাদেশে সংস্কৃতি চর্চা করার বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে। কারণ বিভাগের লোকেরাই রাজধানীতে কাজ করবে, এটাই চিরাচরিত।

২. এই ঘোষণা মহারাষ্ট্র ভারত কোনোভাবেই না মেনে নিলে, প্রবাসী সরকারের মতো কোলকাতাকে প্রবাসী বিভাগ ঘোষণা করা যেতে পারে। মাননীয় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষগণ, বিষয়টি ভেবে দেখুন। অন্যথায় চলমান আঁতলামী থেকে আমাদের মুক্তি দিন।

(86)

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
141

Comment()

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।