fbpx

বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল

মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০১৯; ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬; ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪০
হোম দর্শক ফোরাম জ্যাক মা; অসংখ্যবার ব্যর্থ হয়েও সফলতার উদাহরণ
জ্যাক মা; অসংখ্যবার ব্যর্থ হয়েও সফলতার উদাহরণ

জ্যাক মা; অসংখ্যবার ব্যর্থ হয়েও সফলতার উদাহরণ

91
0

জ্যাক মা। বর্তমান বিশ্বে শীর্ষ ধনীদের একজন তিনি। বর্তমানে জ্যাক মা এর সম্পদের পরিমাণ ২৫০০ কোটি ডলার।

জ্যাক মা ১৯৬৪ সালে চীনের হোয়াং ঝু প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাতা হাট বাজারে গান গেয়ে জীবিকা অর্জন করতেন বলে জানা যায়। তবে দাদা ছিলেন চীনের জাতীয়তাবাদী দলের একজন স্থানীয় অফিসার। কমিউনিস্ট পার্টি বিজয়ের পর তাঁর দাদাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া দেয়। মোদ্দা কথা, মা ছিলেন অভাব অনটনে অতিষ্ঠ এক সাধারণ পরিবারের সন্তান। জ্যাক মা তাঁর শিক্ষা জীবনে ছিলেন চরম মাত্রায় ব্যর্থ, চাকরিতেও অসফল। এই জ্যাক মা-ই আজ বিশ্বের এক শীর্ষ ধনী।

জ্যাক মা তাঁর জীবনের প্রথম ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেন টানা দু’বার। তাঁর জীবনী থেকে জানা যায়, শুরুতেই গলদ করেই এই ছাত্র বহু কষ্টে শিক্ষা জীবনে অসংখ্যবার ফেল করে গিয়েছিলো কলেজ পর্যন্ত। কলেজের ভর্তি পরীক্ষায়ও পর পর দু’বার ফেল করে সবশেষে এই অভিশপ্ত শিক্ষাজীবন ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। এরপর পুলিশের চাকরির জন্য আবেদন করেন সেখানেও প্রত্যাখ্যাত হন। এমন কি আশ্চর্যের বিষয় এও যে, বোকা ফেল করা ছাত্র হয়েও তিনি পড়তে চেয়েছিলেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের মত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্যর্থ হন সেখানেও। শুধু একবার নয়, টানা ১০ বার চেষ্টা চালিয়েছিলেন হার্ভাডে পড়বার জন্য। শুধু ভাগ্যই সেবার তাঁর সহায় হয়নি।

এখানেই শেষ নয়; কেএফসি যখন চীনে তাদের ব্যবসার জন্য আসে তখন জ্যাক মা সহ ২৪ জন কেএফসি তে চাকরির জন্য আবেদন করেন। সেখানে ২৩ জনের চাকরি হলেও বাদ পড়েন হতভাগা মা। তারপর শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ নেন জ্যাক মা।

জ্যাক মা কিন্তু তাঁর প্রকৃত নাম নয়। এক বন্ধুর পরামর্শে ‘মা ইয়ান’ থেকে তিনি ধারণ করেন নতুন নাম ‘জ্যাক মা’। পরে ইংরেজির শিক্ষক হিসাবে মাত্র ১০ ইয়েনের বেতনে শিক্ষকতার চাকরি নেন তিনি । অভাব অনটনে কাটতে থাকে দিন। প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল ২ বার, মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফেল ৩ বার, পুলিশ হতে গিয়ে ব্যর্থ ১ বার, হার্ভার্ডে ভর্তির চেষ্টায় ব্যর্থ ১০ বার, কেএফসির চাকরিতে ২৩ জনের মধ্যে একাই ব্যর্থ। তারপরও হাল ছাড়েননি জ্যাক মা। সফলতার মঞ্জিলে পৌঁছাতে চালিয়ে গেছেন নিরন্তর সংগ্রাম। এরপরই বাজলো সফলতার ঘণ্টা।

শেষবার কিভাবে সফল হলেন জ্যাক মা?
১৯৯৫ সাল। মা ভ্রমণে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে দেখেন অনেকেই ইন্টারনেট ভিত্তিক নানা ধরণের ব্যবসা করছেন। তাঁর মনেও এ নিয়ে চিন্তার উদয় হয়। তিনি তখন মনে করেছিলেন, সামনের দিনগুলোতে ইন্টারনেটের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর দেশে ফিরেই পণ্য কেনা-বেচার একটি ওয়েবসাইট খুলে বসেন। যার নাম দেন ‘আলী বাবা.কম’।

To make it easy to do business anywhere মিশন কে সামনে রেখে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু হয় আলী বাবা.কম এর। আলিবাবা গ্রুপের কর্পোরেট ক্যাম্পাস হাংঝু প্রদেশের জিজি (Xixi ) জেলাতে অবস্থিত। জানা যায়, চীনেই আলিবাবা গ্রুপের ১২৬টি অফিস এবং ২৯টি আন্তর্জাতিক অফিস আছে। কর্মচারি সংখ্যা ৭০ হাজারেরও বেশি।

জ্যাক মা তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম আলিবাবা রাখার পিছনে কারণ আছে। আলিবাবা চরিত্রটি জনপ্রিয় এবং বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ আলিবাবার গল্প জানেন এবং এটি উচ্চারণ করাও সহজ। ঠিক তেমনিভাবে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আলিবাবা.কম ছোট উদ্যোক্তাদের জন্যে সম্ভাবনার বিশাল দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

এই কোম্পানিটিই বর্তমান বিশ্বে ই-কর্মাসের সফলতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আলিবাবার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করেই জ্যাক মা চীনের সবচেয়ে বড় ধনী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আলিবাবার ১২ ভাগ শেয়ার বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এই শেয়ারের মোট মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলার।

তিনি ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন:
১. প্রবল আত্মবিশ্বাস,
২. কাজকে অভ্যাসে পরিণত করা,
৩. হাল না ছাড়া,
৪. উদ্যোগ নিলে সেটি বাস্তবায়ন করা,
৫. ভয় না করা,
৬. প্রতিদ্বন্দ্বীদের কখনোই শত্রু মনে না করা।

(91)

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
91

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।