fbpx

বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল

বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯; ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬; ২১শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১
হোম সংবাদ ২৪ ঘন্টা রাখাইনে গুলি করতে করতে ২শ সেনার অতর্কিত আক্রমন
রাখাইনে গুলি করতে করতে ২শ সেনার অতর্কিত আক্রমন

রাখাইনে গুলি করতে করতে ২শ সেনার অতর্কিত আক্রমন

33
0

আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন গ্রামে। গুলি করতে করতে গ্রামে প্রবেশ করেছে অন্তত ২শ সেনাসদস্য। এতে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে রাখাইন পল্লীসহ আশপাশের এলাকায়। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে সংবাদ মাধ্যম ইরাবতি এ খবর দিয়েছে।

ইরাবতি জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বুথিডং টাউনশিপে হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী।  গুলি করতে করতে ২০০ সেনাসদস্য বুথিডংয়ে প্রবেশ করে। আরাকান আর্মির হামলার জবাব দিতেই সেনাবাহিনী তাদের গ্রামে প্রবেশ করে। ওই সশস্ত্র সংগঠনের দাবি, সেনাবাহিনী গ্রামের কাছে ৭০টি শেলিং করেছে।

আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবি তুলে প্রায় এক দশক আগে শুরু হয় আরাকান আর্মির সাংগঠনিক উদ্যোগ। নিজেদের ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে সামনে আনতে চায় রাখাইন নৃগোষ্ঠীর (আরাকানি) বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই সংগঠন। কারো কারো ধারণা, এই মুহূর্তে তাদের সদস্য সংখ্যা তিন হাজার। কেউ আবার মনে করেন, ৭ হাজার সেনা রয়েছে তাদের। ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে মিয়ানমারের বর্ডার পুলিশের ফাঁড়িতে হামলা চালায় আরাকান আর্মির সদস্যরা। হামলায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত ও অপর ৯জন আহত হয়। এরপর প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে সশস্ত্র ওই গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। জোরালো হয় সেনা-আরাকান আর্মি সংঘাত।

সংবাদমাধ্যম ইরাবতিকে গ্রামবাসী জানিয়েছে, ২৮ জানুয়ারি (সোমবার) পাহাড়ের এক পাশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে আরাকান আর্মি হামলা চালায় তার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ২০০ সদস্য উপস্থিত হয় গ্রামটিতে। কিন্তু আরাকান আর্মি তাদের ওয়েবসাইটে দাবি করেছে, সোমবারে শুরু হওয়া সংঘর্ষের আগেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী (তাতমাদাও) গ্রামটিতে হামলা চালায়। থা মি লা নামের অপর একটি গ্রামও সেনাবাহিনীর হামলার স্বীকার হয়েছে। রাখাইনের ওন চং গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নারী ইরাবতিকে জানিয়েছেন, পরে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যরা গ্রামে অবস্থান নেয়।  কেউ হতাহত না হলেও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শেলিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘর-বাড়ি।

আরাকান আর্মির ভাষ্য, সেনাবাহিনী এলোপাথাড়ি ৭০ রাউন্ড গোলা নিক্ষেপ করেছে গ্রাম সংলগ্ন বনভূমি এলাকায়। ফলে বেশ কয়েকটি শেল বিস্ফোরিত হয়েছে গ্রামের কাছে পাহাড়ের ওপর। কো মং শিউ আয়ে, উ মং কিয়াও এবং উ মিয়াত থেইন তুন নামের তিন জনকে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত অপর আরেকজন হচ্ছেন স্কুল শিক্ষক থান উইন চে।

ওন চং গ্রামের দুইজন নারী নাম গোপন রাখার শর্তে সংবাদ মাধ্যম ইরাবতির সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোঁড়া শেল তাদের গ্রামের কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে কোনও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও কিছু স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। সেনাবাহিনী গুলি চালাতে চালাতে ঢুকেছিল তাদের গ্রামে। গুলির খোসা ছড়িয়ে ছিল চারপাশে। শিশুদের ক্ষতি হবে ভেবে সেগুলো পরিষ্কার করেন একজন ভিক্ষু।

সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের ১০০ জনের মতো সদস্য গ্রামেই অবস্থান নেয়। রাতে বাহিনীর সদস্যরা গ্রামবাসীকে বাধ্য করে তাদেরকে ঘরে থাকার জায়গা দিতে। সংশ্লিষ্ট নারীরাই নিশ্চিত করেছেন, শিক্ষক মং শিউ আয়েকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

(33)

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
2

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।