বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। আর এই অবস্থায় রাজধানীতে কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য এবার দুইটি স্থায়ীসহ ২৫টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়ার কারণে দেওয়া হয়েছে লকডাউন।
অন্যদিকে দুই সিটিতে হাটের ইজারা চূড়ান্তের কাজও শেষ হয়নি। তারা ২৫টি হাটই বসানোর বিষয়ে এখনো অটল রয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩টি হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
উত্তর সিটির গাবতলীসহ এবং দক্ষিণের সারুলিয়ায়ও পশু বেচাকেনা হবে। কিন্তু এই বাড়তি সংক্রমণের মধ্যে কীভাবে ঢাকায় ২৫টি গরুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হবে এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকেও কীভাবে খামারিরা গরুসহ হাটে আসবেন? এর মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়বে কি না, এ নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
করোনার কারণে অনলাইনে হাট বসানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী হাট কমতে পারে। সিটি করপোরেশন জানায়, পশুর হাট বসলে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে কঠোর থাকবে তারা। হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা।
শরীরের তাপমাত্রা মাপা। ঠান্ডা, জ্বর ও কাশিতে আক্রান্তদেরকে পশুর হাটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি সংবলিত ব্যানার, পোস্টার টানানোসহ সব সময় মাইকে প্রচারের ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, যারা ইজারা পাবে তাদের স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে মেনে হাট পরিচালনা করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া করোনা সংক্রমণসহ যে কোনো পরিস্থিতি বিবেচনায় হাটের সংখ্যা কমতেও পারে। একই কথা বললেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মল হক। তিনি বলেন, এখনো ইজারা সম্পন্ন হয়নি। এর পরে পরিস্থিতি অনুযায়ী হাটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে গত বছর কোরবানির সময় অনলাইনে জমে উঠেছিল পশুর হাট। অনলাইনভিত্তিক পশুর হাটে কোরবানির পশু বেচাবিক্রি হওয়ায় স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটের ওপর চাপ কিছুটা কম ছিল। অনেকেই পশুর হাটে না গিয়েও অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে কেনাকাটা সেরেছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাটে চাপ কমাতে অনলাইনে হাটের বিকল্প নেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, আগামী দুই-তিন সপ্তাহ পর কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থা থাকলে পশুর হাটের ক্ষেত্রে সংখ্যা কমিয়ে অনলাইনে পশুর হাটের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ অনলাইনে কেনাকাটা বাড়লে হাটে ভিড় কম হবে। এছাড়া রাজধানীর আশপাশে খোলা জায়গায় হাট বসানো যেতে পারে।
(0)

