fbpx

বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২০; ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭; ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪১
হোম আন্তর্জাতিক একটি ভয়াবহ যুদ্ধ কি আসন্ন?
একটি ভয়াবহ যুদ্ধ কি আসন্ন?

একটি ভয়াবহ যুদ্ধ কি আসন্ন?

0

বিশ্বজুড়ে এখন সর্বাধিক আলোচিত, সমালোচিত ও পঠিত সংবাদ ইরানের ক্ষমতাধর সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড। শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় তাঁকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ডে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, কাশেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে যুদ্ধ থামাতে, আরেকটি যুদ্ধ শুরু করতে নয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। আর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে  প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলেছেন।

সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড: মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক ও বিধ্বংসী যুদ্ধের অবতারণা করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর জেনারেল এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুদসের প্রধান কাসেম সোলেইমানি বাগদাদে এক মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হবার পর দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কাউন্সিল বলেছে, ‘সঠিক সময়ে এবং সঠিক জায়গায়’ এ হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে।নিরাপত্তা কাউন্সিলের ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনি।

বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জেনারেল সোলেইমানি নিহত হবার পর বিশ্বের নেতৃবৃন্দ উদ্বিগ্ন প্রতিক্রিয়া জানান।ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদী বলেছেন, এ আক্রমণের ফলে মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরেও যুদ্ধ বেধে যেতে পারে

ঠিক এ আশংকারই প্রতিফলন ঘটে জাতিসংঘের মহাসচিব এ্যান্টোনিও গুতেরেসের প্রতিক্রিয়ায়। মি. গুতেরেস বলেন, উপসাগরে আরেকটি যুদ্ধের ঝুঁকি নেবার মত অবস্থা বিশ্বের নেই – এবং তিনি রাষ্ট্রনেতাদের সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ হাজার সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে বিভিন্ন দেশে। কুয়েত, কাতার, জর্ডান, বাহরাইন, সংযুক্ত আররব আমিরাত, ওমান, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কে এ উপস্থিতি বিদ্যমান। নতুন করে ৩০০০ সৈন্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা।

ইরানেরও আছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সরব উপস্থিতি। সিরিয়া, ইরাক, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেনে ইরানের অনুগত মিলিশিয়া ও মিত্র সরকার ব্যবস্থা  আছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ হামলার চরম প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল থেকে শক্তিধর প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন  সোলাইমানিকে হত্যা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি বেপরোয়া সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। জো বাইডেন বলেছেন, একটি দিয়াশলাইয়ের বাক্সে ডিনামাইটের কাঠির ঘষা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

যুদ্ধের আশঙ্কা

যুদ্ধ থামাতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে ‘যুদ্ধ বন্ধে, আরেকটি (যুদ্ধ) শুরু করতে নয়’। তাঁর মতে, সোলাইমানির ‘সন্ত্রাসের শাসন শেষ’।

অন্যদিকে আজ শনিবার ভোরে ইরাকে নতুন করে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

এর আগে গত রোববার ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর (হিজবুল্লাহ ব্রিগেড) অন্তত ২৫ সদস্য নিহত হন। আহত হন ৫৫ জন। কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ও সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইরান সমর্থিত বাহিনী। ওই হামলার ঘটনার জেরে ক্ষোভ জানাতে বিক্ষোভকারীরা গত মঙ্গলবার ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরের দিকের দেয়াল ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভে হাজার হাজার শোকাহত মানুষের সঙ্গে কাতাইব হিজবুল্লাহ মিলিশিয়ার নেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিসসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মিলিশিয়া নেতা যোগ দেন। এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে নববর্ষের প্রাক্কালে এক টুইটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দেন, যেকোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ‘বড় ধরনের মূল্য’ দিতে হবে।

আজ বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সতর্কতা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে আরও তিন হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া কাতাইব হিজবুল্লাহ মিলিশিয়ার নেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিসও ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, হামলায় কাসেম সোলাইমানির সঙ্গে ১০ জন নিহত নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তাঁদের পাঁচ সদস্য রয়েছেন।

সোলাইমানির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, আল্লাহর কাছে তাঁর (কাসেম সোলাইমানি) চলে যাওয়ার মানে তাঁর পথ বা মিশনের শেষ নয়, বরং যারা তাঁর এবং অন্য শহীদদের রক্তে হাত লাল করেছে, সেই সব অপরাধীর জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর প্রতিশোধ।

জেনারেল সোলাইমানি নিজ দেশ ইরানে হাজি কাসেম নামে পরিচিত। তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন কমান্ডার হলেও অলিখিতভাবে তাঁর পদমর্যাদা দেশটির যেকোনো সামরিক কর্মকর্তার ওপরে ছিল।

রেভল্যুশনারি গার্ডের ‘কুদস্ ফোর্স’ সোলাইমানির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। ২১-২২ বছর ধরে বাহিনীটি গড়ে তোলেন তিনি।

‘কুদস্ ফোর্স’ অপ্রচলিত যুদ্ধের জন্য তৈরি একটা বৃহৎ ‘স্পেশাল অপারেশন ইউনিট’। এই ফোর্সের প্রধান কর্মক্ষেত্র মূলত ইরানের বাইরে। কুদস্ ফোর্স ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন সোলাইমানি।

সোলাইমানি তাঁর বাহিনীর পুরো কাজকর্মের জন্য আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে জবাবদিহি করতেন। খামেনি জেনারেল সোলাইমানিকে ‘অর্ডার অব জুলফিকার’ পদক দেন। বিপ্লব-উত্তর ইরানে এই খেতাব তিনিই প্রথম পান।

এ সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে। তাঁদের সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। গত বছরের মে মাস থেকে মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ১৪ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব

ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যায় যেমন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন, তেমনি বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলোতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সোলাইমানিকে হত্যার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, সিরিয়া, চীন ও ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল। তবে প্রতিক্রিয়া দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছে বৃটিশ সরকার। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই হত্যাকা- মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করবে। জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকে একটি ‘অ্যাডভেঞ্চারিস্ট’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা তাস’কে এ কথা বলেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কূটনীতিক। রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিমান হামলাকে একটি ভুল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটা হামলাকারীদের বিরুদ্ধেই বুমেরাং হতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউরোনিউজ।

এতে বলা হয়, শুক্রবার কোনস্টান্টিন কোসাচেভ তার ফেসবুকে লিখেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধানের শেষ আশাটুকুও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেছেন, এখন ইরান তার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পদক্ষেপ দ্রুততর করতে পারে, যদিও এর আগে তাদের এমন পরিকল্পনা ছিল না। রাশিয়া ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টারের স্ট্রাজেটিক স্টাডিজ অ্যান্ড এনালাইসিসের পরিচালক ভ্লাদিমির সন্তেকোভ বলেছেন, সোলাইমানিকে হত্যা একটি বড় ভুল। হতে পারে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টারা পুরোপুরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করেন নি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। এ বিষয়ে মার্কিনিরা কোনো স্ট্রাটেজিক অবস্থান নেয় নি। কিন্তু কৌশলগত দিক দিয়ে এটা একটা ভুল। এর ফলে ইরানে নতুন করে মার্কিন বিরোধিতা উসকে উঠবে। নির্বাচনী প্রচারণায় ইরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাতে আঘাত লাগবে। এর ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তার অংশীদারদের সম্পর্কে টান ধরতে পারে।

হত্যাকান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী আমেলি ডি মন্টচালিন বলেছেন, আমরা ঘুম থেকে উঠলাম আরো বিপজ্জনক এক পৃথিবীতে। সামরিক উত্তেজনা সব সময়ই বিপজ্জনক। এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পরে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনি নতুন বিপজ্জনক উত্তেজনা এড়ানোর পক্ষে এবং সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।

বৃটিশ সরকার সতর্কতার সঙ্গে বলেছেন, আরো যুদ্ধ আমাদের কারো পক্ষে যাবে না। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব বলেছেন, কাসেম সোলাইমানি নেতৃত্বাধীন ইরানের কুদস বাহিনী যে আগ্রাসী হুমকি হয়ে আছে, সে বিষয়টি সব সময়ই স্বীকার করে বৃটেন। তবে এই বিবৃতিতে ওই হত্যাকান্ডের পক্ষে বা বিপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা হয় নি।

কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে জার্মানি। বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ এক উত্তেজনাকর অবস্থায় উপনীত হয়েছে। এই সংঘাত শুধুমাত্র কূটনৈতিক উপায়েই সমাধান করা যেতে পারে। তবে ইরান এরই মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার ও সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় যে হামলা করেছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে জার্মান সরকারের মুখপাত্র উলরিক ডেমার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ওইসব ঘটনার মধ্য দিয়ে সামরিক উস্কানি দিয়েছিল ইরান। তারই জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এমন হামলা চালিয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল যেকোনো মূল্যে সব পক্ষকে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরাকে সহিংসতা থেকে পুরো অঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আমেরিকানরা নিরাপদ হলো নাকি বিপদ ডেকে আনলো?

 ইরাকের রাজধানী বাগদাদ শহর ছাড়তে নিজ দেশের নাগরিকদের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রাভানছি কড়া ভাষায় শনিবার জানিয়ে দিয়েছেন, জবাব না দিয়ে সোলাইমানি হত্যার বিষয় ছেড়ে দেয়া হবে না। তিনি বলেছেন, এর প্রতিশোধ হবে ভয়াবহ। কোথায়, কিভাবে, কখন এই প্রতিশোধ নেয়া হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের অনলাইন গার্ডিয়ান।

জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যাকাণ্ডে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকরাই বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তারা কেউ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। অন্যরা এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। ট্রাম্পের পক্ষ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যালঘু নেতা, রিপাবলিকান লিন্ডসে গ্রাহাম, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেট দল থেকে প্রার্থী জো বাইডেন, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর প্রমুখ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউরোনিউজ।

কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি ২০১৯ সালের জুনে বলেছিলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনোই পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প তা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে ব্যবহার করছেন কিনা ট্রাম্প এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর।

উল্লেখ্য, কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছে ইরান। ওই হত্যাকাণ্ডের পর পরই # ওয়ার্ল্ডওয়ার ৩ এবং # ডব্লিউডব্লিউ ৩ নামের হ্যাশট্যাগ দ্রুত টুইটারে ট্রেন্ডে পরিণত হয়। এ ঘটনায় ইসরাইল ও মার্কিন স্বার্থে প্রতিশোধ নিতে পারে ইরান। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক আলী ভায়েজ ইউরোনিউজকে বলেছেন, ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দেশ। ওই অঞ্চলজুড়ে তার রয়েছে প্রক্সি নেটওয়ার্ক ও অংশীদার। ফলে ইয়েমেন থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া এবং আফগানিস্তান পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তার বিদেশী মিত্রদের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে তারা।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।