fbpx

বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল

বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯; ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬; ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪০
হোম গণমাধ্যম অনলাইন ইউটিউব থেকে উপার্জন করবেন কিভাবে ?
ইউটিউব থেকে উপার্জন করবেন কিভাবে ?

ইউটিউব থেকে উপার্জন করবেন কিভাবে ?

164
2

বর্তমানে ভিডিও আদান-প্রদান করার অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউব । একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ওয়েব ২.০ এর অন্যতম কর্ণধার ইউটিউব বর্তমান ইন্টারনেট জগতের একটি জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট যা এর সদস্যদের ভিডিও আপলোড, দর্শন আর আদান-প্রদানের সুবিধা দান করে আসছে। ইউটিউবে আরো আছে ভিডিও পর্যালোচনা, অভিমত প্রদান সহ নানা প্রয়োজনীয় সুবিধা।

২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির পেছনে ছিলেন মূলত পেপ্যাল প্রতিষ্ঠানের তিন প্রাক্তন চাকুরীজীবি, চ্যড হারলি, স্টিভ চ্যন আর বাংলাদেশি বংশদ্ভুত জাওয়েদ করিম। বর্তমানে ইউটিউব শব্দটার সাথে পরিচিত নন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

শুধু ভিডিও দেখা বা আপলোড-ডাউনলোড করার মধ্যদিয়েই ইউটিউবের কাজ শেষ নয়; একটা ইউটিউব চ্যানেল থেকে কোটি কোটি টাকাও আয় করতে পারে মানুষ।

সফল ইউটিউবার দেখতে চাইলে আজকাল আর বহিঃবিশ্বে তাকানোর প্রয়োজন হয়না। বাংলাদেশেই আছেন কয়েকজন বাঘা বাঘা ইউটিউবার।

সফল ইউটিউবারের উদাহরণ টানতে গেলে আয়মান সাদিকের প্রসঙ্গ চলে আসে। তিনি একজন বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব, বক্তা, এবং অনলাইন শিক্ষক। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে তাঁর হাত ধরে উঠে আসে “১০ মিনিট স্কুল” নামক একটি অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা অনলাইনে শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য এবং সহযোগীতা বিনামূল্যে দিয়ে থাকে।

এছাড়াও সোলায়মান সুখন, রাবা খান, শামীম হাসান সরকার,  আসিফ বিন আজাদ,  রিদি শেখসহ অনেক নামকরা ইউটিউবার তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ইউটিউব জগৎ দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর সেখান থেকে আয় করছেন।

২০১৮ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, শুধুমাত্র ইউটিউবে খেলনার রিভিউ দেখিয়ে ২২ মিলিয়ন ইউএস ডলারের মালিক হয়েছে রায়ান নামের এক শিশু, যার বয়স মাত্র ৭ বছর!  দ্বিতীয় স্থানে আছেন জেক পল নামের এক তরুণ যার আয় ২১.৫ মিলিয়ন।

প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান কিছু নিজস্ব রুলস এন্ড রেগুলেশন অনুযায়ী চলে। ইউটিউব-ও এর ব্যতিক্রম নয়। ইউটিউব থেকে টাকা উপার্জন করতে হলে অবশ্যই ইউটিউবের নিয়ম-নীতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। যে কোনো ধরনের বিতর্কিত ভিডিও যেমন ধর্মীয়, রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে আঘাত হানবে এমন,অথবা আপত্তিকর ও অশ্লীল বিষয়বস্তু, গ্রন্থস্বত্ব ভঙ্গ করে ইত্যাদি ধরনের ভিডিও ইউটিউব গ্রহণ করবে না।  তাই ইউটিউব চ্যানেল খোলার আগে এর সম্পর্কে জানা জরুরী।

এটি তেমন কোনো আহামরি কাজ নয়। প্রথমে একটি জি-মেইল অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এই অ্যাকাউন্ট দিয়ে ইউটিউবে লগইন করতে হবে। সেখানে ‘Create Channel’ পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে নিজের চ্যানেল তৈরি করতে হবে। এরপর একটি ভালো প্রোফাইল পিকচার এবং কভার ফটো অ্যাড দিতে হবে। তারপর  নিজস্ব ক্যামেরায় তৈরি যে কোনো ফুটেজ আপলোড করতে হবে। ব্যস, ৫০ শতাংশ কাজ তৈরি হয়ে গেলো মুহূর্তেই।

ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এটি পুরো নির্ভর করছে  কোনো ব্যক্তির দক্ষতা, শখ অথবা আগ্রহের উপর। একজন মানুষ কী ধরনের ভিডিও বানাতে পছন্দ করেন বা ভবিষ্যতে এই ধরনের ভিডিও বানানোর ক্ষেত্রে তার নতুন নতুন আইডিয়ার অভাব হবে কিনা, এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই বিষয় নির্ধারণ বাঞ্ছনীয়।

একজন হয়তো  ভালো নাচ জানে সে তার নাচ ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারে।

আবার দেখা গেলো কেউ একজন তার ছোট ভাই-বোন অথবা পাড়ার বাচ্চা-কাচ্চাদের পড়ায় এবং তারা খুব মজা করে তার কাছে পড়ে। সেখানে তাদের নানা ধরনের আলাপ আলোচনা, খুনসুটি আর মজা হয়। এই মজার মুহূর্তগুলোকে সে ভিডিও করে তুলে ধরতে পারে ইউটিউব এর মাধ্যমে। ইউটিউবে সফল হতে হলে আপনার ভিডিও গুলো হতে হবে মানুষের কাছে আকর্ষণীয়।

ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করতে হলে অবশ্যই আপনার চ্যানেলটিকে মনিটাইজেশন করতে হবে।

মনিটাইজেশন শব্দটি এসেছে মনিটাইজ থেকে যার অর্থ কোনো সম্পদ বা ব্যবসায় থেকে আয় করা। মনিটাইজেশন বলতে বোঝায়, পরিশ্রম ও মেধা খাটিয়ে ভিডিও আপলোড করে অর্থ উপার্জন করা। অর্থাৎ ইউটিউবে ভিডিওতে অ্যাড বসানো, এবং এর দ্বারা আয় করাকে বলা হচ্ছে ইউটিউব মনিটাইজেশন।

পূর্বে ইউটিউব মনিটাইজেশন সহজ থাকলেও কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে গিয়ে ২০১৮ সাথে ইউটিউব কিছু নতুন নীতিমালা দেয়।

অ্যাডসেন্স চালু করতে প্রথমেই আবেদন করতে হবে অ্যাডসেন্সের জন্য। এক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক তথ্য দিতে হবে। তবে অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্যে ২০১৮ সালের নিয়ম অনুযায়ী চ্যানেলকে কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। যেমন: ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ ভিউ এবং সেটা হতে হবে শেষ ১ বছরের মধ্যে। অথাৎ আপনার ইউটিউব চ্যানেলে ন্যূনতম ১ হাজার সাবস্ত্রাইবার থাকতে হবে এবং চ্যানেলের ওয়াচ ভিউ কমপক্ষে ৪ হাজার ঘণ্টা হতে হবে। আপনি যে জি-মেইল দিয়ে অ্যাডসেন্স এ এপ্লাই করবেন সেই জি-মেইলে অবশ্যই আপনার বয়স ১৮ হতে হবে এবং আপনার চ্যানেলের চ্যানেল আইকন থাকতে হবে।

বর্তমানে অনলাইনে পণ্যসামগ্রী বিক্রয় করে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানই আছে। যেমন: Daraz, Pickaboo সহ আরো এমন অনেক সাইট আছে সেখানে গিয়ে আপনি রেজিস্টেশন করতে পারবেন। এরপর তারা একটি লিংক পাঠাবে সেই লিংকটি আপনি আপনার ইউটিউব ভিডিও এর ডেসক্রিপশনে দিয়ে ‍দিতে পারবেন। এরপর আপনার চ্যানেলের এই লিংকে গিয়ে যারা পণ্য কিনবে সেই পণ্যের মূল্য থেকে নির্দিষ্ট  পরিমাণ অর্থ আপনি কমিশন হিসেবে পাবেন।

বর্তমানে এমন অনেক কোম্পানি আছে যারা এ সুবিধাটি দিচ্ছে। ধরুন, আপনি আপনার কোনো একটি ভিডিওতে তাদের পণ্য সম্পর্কে কয়েক সেকেন্ডের একটা ব্রিফ দিলেন। এক্ষেত্রে তাদের পণ্যের প্রচারণা হয়ে যাবে, আর তারা আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। তবে এই ধরনের অফার শুধুমাত্র মানসম্মত ও অধিক ভিউ সম্পন্ন ভিডিও মালিকগণ পেয়ে থাকেন।

ইউটিউব অ্যাড অথবা অ্যাফিলিয়েট লিংক  হতে যে পরিমাণ আয় করা সম্ভব তার থেকেও বেশি আয় করা সম্ভব শুধু স্পন্সরড ভিডিও পাবলিশ করে। তবে সাধারণত অধিক জনপ্রিয় চ্যানেলগুলোই এই ধরনের সুবিধা বেশি পায়ে থাকে।

 

(164)

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
1201

Comment()

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।