fbpx

বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল

বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২০; ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭; ১১ই শাওয়াল, ১৪৪১
হোম আন্তর্জাতিক আজ নিউজিল্যান্ডের মেয়েরা হিজাব পরেছে
আজ নিউজিল্যান্ডের মেয়েরা হিজাব পরেছে

আজ নিউজিল্যান্ডের মেয়েরা হিজাব পরেছে

0

নিউজিল্যান্ডের মুসলিম নারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে আজ শুক্রবার পুরো দেশজুড়ে এক দিনের জন্য মাথা ঢেকে রাখছেন নারীরা।

‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’র আয়োজকরা বলছেন, কী ধরনের কাপড় মাথায় পরতে হবে, বা কিভাবে তা পরতে হবে, এ নিয়ে বিশেষ কোনো নিয়ম-কানুন থাকছে না। ক্রাইস্ট চার্চ মসজিদে হামলার ঠিক পরের শুক্রবার এ ভাবে দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড সংবাদপত্র বলছে, শুধু এর মাধ্যমে কিউইরা নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীদের প্রতি তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন।

তবে এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে হৈচৈ, আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারীদের প্রতি অবিচার করা হবে, এবং নারীরা যে পুরুষের অনুগত, দেয়া হবে সেই বার্তাও।

কিন্তু অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম বিষয়ক একজন পণ্ডিত ড. যাইন আলী  এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে ভীষণভাবে গর্ববোধ প্রকাশ করেছেন। নিউজিল্যান্ডের মুসলিম নারীরাও অনুষ্ঠানটি নিয়ে গর্বিত হতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।

ঠিক এক সপ্তাহ আগে গত শুক্রবার একজন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রপন্থী নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটো মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসল্লিকে হত্যা করে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড তাদের খবরে বলছে, ‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’র ধারণাটা প্রথম আসে অকল্যান্ডের একজন ডাক্তার থায়য়া আশমানের মাথায়।’

ক্রাইস্টচার্চের হামলার পর এক দিন তিনি টিভির খবরে দেখতে পান যে একজন মহিলা বলছেন, ঐ ঘটনার পর তিনি হিজাব পরে বাইরে বেরুতে শঙ্কাবোধ করছেন।

একথা শোনার পর তিনি মনে করলেন সারা দেশের মুসলিম নারীদের জন্য কিছু একটা করা প্রয়োজন। এই সূত্র ধরে ‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’র শুরু।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানাচ্ছে, প্রথম দিকে ডা. আশমান ব্যাপারটি নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন। পরে তিনি ইসলামিক উইমেন কাউন্সিল অফ নিউজিল্যান্ড এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেন।

দুটি প্রতিষ্ঠানই ডা. আশমানের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন দেয়। কিউইরা কিভাবে এই মাথা ঢেকে রাখবেন ডা. আশমান তা নিয়ে তাদের কাছে পরামর্শ চান।

তবে তিনি বলছেন, তিনি ঠিক হিজাব পরার কথা বলছেন না। তার বদলে নিউজিল্যান্ডের নারীরা যেকোনোভাবে কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে মুসলিমদের প্রতি সমর্থন জানালেই হবে।

তবে এই অনুষ্ঠান নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই বিরোধিতা করছেন। অনেকে বলছেন এতে নারী অধিকারের অবমাননা হবে।

একজন পোস্ট করেছেন: “হ্যাঁ, নারীদের নির্যাতন করতেই হবে। ইরানে নারীরা মাথার চাদর খুলে ফেললে তাদের পিটিয়ে জেলে ঢোকানো হয়।”

“নির্যাতন আর বৈষম্যের প্রতীক মাথায় বেঁধে আপনারা এক হত্যাযজ্ঞের স্মরণ অনুষ্ঠান করছেন,” অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “এটা ভুলে গেলে চলবে না।”

অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. যাইন আলী বলছেন, এর মাধ্যমে মুসলিম নারীদের অবমাননা হবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

“কিন্তু এর মাধ্যমে অন্য নারীদের কি অপমান করা হচ্ছে? না, কারণ কাউকে জোর করে মাথায় কাপড় দেয়ানো হচ্ছে না।”

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের নারীরা যদি মাথায় স্কার্ফ পরেন, তার মানে এই নয় যে সৌদি আরব বা ইরানে যা ঘটছে তারা তার সাথে একমত। দুটি ভিন্ন বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখার পরিপক্বতা থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Like
Like Love Haha Wow Sad Angry

LEAVE YOUR COMMENT

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।